ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল থেকে হামলার অভিযোগ এনে জামায়াত শিবিরের ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ। ফেনী সদর থানার এসআই পলাশ চৌধুরী রোববার রাতে এ মামলা করেন। মামলায় পুলিশের এক কনস্টেবল সহ স্থানীয় দুই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে সাক্ষী করার বিষয় জানেন না দাবি করে ব্যবসায়ী মীর হোসেন বাবলু ও ওবায়দুল হক বলেন, রোববার বাদ জোহর জহিরিয়া মসজিদ থেকে বের হয়ে জামায়াত শিবিরের লোকেরা এক মিনিট স্লোগান দিয়ে গলির ভেতর চলে যান। পরে পুলিশ এসে বাঁশি বাজিয়ে এদিক- সেদিক দৌড়াদৌড়ি করেন। হামলা দূরে থাক, আমরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ কিংবা নেতাদের কার ও হাতে লাঠিও দেখিনি। তবে পুলিশ আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কারা মিছিল করেছে ? আমরা জামায়াতের কথা বলেছি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল হান্নানের নেতৃত্বে মসজিদের সামনে সংক্ষিপ্ত মিছিল করে নেতারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এমরান হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জামায়াত মিছিল করেছে, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। কিন্তু রাতে হামলা চালিয়ে বাদীসহ চার পুলিশ সদস্য আহত এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা উল্লেখ করে মামলা দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘আমরা নামাজ শেষে আমির ডা. শফিকুর রহমান সহ নেতা কর্মীর মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে এক মিনিট মিছিল করেছি। হয়রানি করার জন্যই মামলা করা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মামলার আসামিরা হলেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান, পৌর আমির মো. ইলিয়াছ, সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ছানাউল্লাহ নবী, শহর জামায়াতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন, জেলা আমির এ কে এম শামছুদ্দিন, সদর উপজেলা আমির আব্দুর রহিম, শহর শিবিরের সভাপতি মো. ইমরান, জেলা শিবিরের সভাপতি মো. ইসমাইল, আইটি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম, আরিফুর রহমান, আবদুর রহিম মামুন, মাস্টার আবু বক্কর ছিদ্দিক মানিক ও মীর হোসেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুপুরে মিছিল করার সময় পুলিশের চারটি টিম বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে জামায়াতের নেতারা ধারালো অস্ত্র, রড়, লাঠি ও ইটের টুকরা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এতে বাদী পলাশ চৌধুরী ছাড়া ও কনস্টেবল রাসেল কান্তি, ইকবাল হোসেন ও ইফতেখার আহাম্মদ আহত হন। তথ্যসূত্র দৈনিক সমকাল ১০ অক্টোবর।