শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়” মিধিলি’র প্রভাবে পরশুরাম উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় শত শত হেক্টর জমিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গতকাল শুক্রবার সারা দিন বৃষ্টি হয়েছে। উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল রাত ১২ টা পযর্ন্ত। পৌর এলাকায় রাতে বিদ্যুৎ আসলেও ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার সারারাত বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না।
এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় মিধিলি প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। মৌসুমের প্রথমে বোরো ধান কাটা সময়ে হঠাৎ অসময়ে বৃষ্টি হয়ে শত হেক্টর ধানের জমিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে শত কৃষকের স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কারণে কৃষকের ঘরে উঠানোর সময় হয়েছে এমন পাকা ধান নষ্ট হয়েছে। হাজারো কৃষকের সপ্ন নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ পাঁচ মাস কষ্ট করে বাম্পার ফসল দেখে কৃষকের মনে হাসি ছিল।এমন মূহুর্তে ফসল নষ্ট হয়েছে । ফলন ভালো হলে তো কৃষকের মন ভালো এই কথাটা এখনকার সময়ে সবচেয়ে বেমানান কারণ তার ভালো হওয়া ফলন ঘরে তোলার আগেই ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে অনেকটাই বিপদগ্রস্ত কৃষক। কৃষকের মুখে হাসি থাকার কথা থাকলেও এখন শুধু দুঃখ ভরা মন নিয়ে মাঠে মাঠে ঘুরছে কৃষক। কারণ তার দীর্ঘ পাঁচ মাসের কষ্টের সাধনার ফল অনেকটা নষ্ট হওয়ার মুখে এবং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পৌরএলাকার বেলাল আহমেদ জানান, আমার ৩ শত শতাংশ জমিতে বোরোধান লাগলো হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ধান বিক্রি করা যেত। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মিধিলি এর অতিমাত্রায় বৃষ্টি কারণে এখন সব ধান পানির নিচে অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। অসময়ে বৃষ্টিপাত হয়ে আমরা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি যা আমাদেরকে আর্থিকভাবে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এখনো অনেক জমিতে ধান অতিমাত্রায় বাতাস হওয়াতে ধান গাছ ভেঙে মাটির সাথে মিশে গেছে। এভাবে আরও অনেকের ধানের জমিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কোলাপাড়া গ্রামের কৃষক নুর মোহাম্মদ জানান, এই সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ফসলি জমিন একেবারেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে ধান কেটে শুকানোর জন্য জমিনে রেখে দেয়।
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কারণে অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত শুকাতে দেয়া অনেক ভিজে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় মিধিলি এর অতিমাত্রায় বাতাসের সাথে ধান জমিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং অতিমাত্রায় বাতাস হওয়াতে ধান গাছ মাটির সাথে মিশে গেছে এতে করে আগের চেয়ে ধানের পরিমাণ খুব কম পাওয়া যাবে অনেকটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাবে এর সাথে নষ্ট হয়ে যাবে ধানের খড় সবমিলে আগের তুলনায় একেবারে কম ফলন পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
এছাড়াও রবি শস্য ফুল কপি,বাঁধা কপি,বেগুন, লালশাক, মুলা’র শাক অসময়ের বৃষ্টি ও অতিমাত্রায় বাতাসের কারন ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।