সীতাকুণ্ডে ডিসি পার্কে চলছে জমজমাট ফুল উৎসব। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত মাসব্যাপী এই ফুল উৎসব। লাখো ফুলের সমাহারে প্রাকৃতিক রূপে মুগ্ধ দর্শনার্থী ও অতিথি সকলেই। অগণিত দর্শনার্থীদের পদাচরনাণায় আনন্দে মুখর ডিসি পার্ক। ফুল উৎসবের এই মেলায় উচ্ছ্বাসিত অনুপ্রাণিত ফুল প্রেমী দর্শনার্থী সকলেই। উৎসবে আগত সাধারণ জনতা আনন্দে যেন মাতোয়ারা।
ফুল উৎসবের মাঝখানের বিশালাকার পুকুরে চলছে কায়াকিং। পুকুরের দুপাশে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ম্যাগনোলিয়া, শিউলি, হাসনাহেনা, কামিনী, বেলি, চেরিসহ দেশি-বিদেশি ফুলের সমারোহ।
হাঁটতে হাঁটতে ফুলের সাথে ছবি তুলছিলেন হাঠহাজারী থেকে আসা আফসানা নেওয়াজ। তিনি বলেন, এর মধ্যে দু”বার আসলাম। অন্যরকম সুন্দর লাগছে। তিনি বলেন, ১ম ফুল উৎসবেও আমি এসেছিলাম তবে তখন এতো আকর্ষণীয় ছিলোনা। অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে এবার। ভালো লাগলো।
এদিকে এই ফুলের রাজ্যে এখন ফুটতে শুরু করেছে টিউলিপ ফুল। ফুলের সমারোহের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন টিউলিপ।
জানা যায়, শীতপ্রধান দেশে টিউলিপ ফুল হরহামেশাই দেখা যায়। কিন্তু গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশে এটি তেমন একটা দেখা যায় না। টিউলিপ ফুল চাষের ক্ষেত্রে দিনের বেলা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহনশীল ধরা হয়। এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা হলে প্রাপ্তবয়সের আগে মানসম্মত ফুল না ফুটতে পারে। স্বাভাবিকভাবে রোপণের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কলি আসতে শুরু করে এবং ২৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত টিউলিপ ফুল স্থায়ী হয়। অনেক সময় আবহাওয়ার কারণে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে।
গাজীপুরের দেলোয়ার হোসেনকে দিয়ে এখানে টিউলিপের বাগান গড়ে তোলা হয়। এখন ছাউনির ভেতরে টিউলিপ ফুল ফুটতে শুরু করেছে। সেখানে শোভা পাচ্ছে লাল, হলুদ, গোলাপি ও সাদা রঙের টিউলিপ।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, গত বছর প্রথমবারের মতো ফুল উৎসবে টিউলিপ ফুলের বীজ প্রাথমিকভাবে রোপণ করা হয়েছিল, সফলও হয়েছিল। মোটামুটি ফুল ধরেছিল। এবার ব্যাপক বীজ রোপণ করা হয়েছে। ফুল ফুটতে শুরু করেছে। এ ফুল নিয়ে মানুষের আগ্রহ ব্যাপক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণের জন্য ফুল উৎসবের ২ মাস আগে নেদারল্যান্ডস থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টিউলিপ ফুলের বীজ আনা হয়েছে। যা জেলা প্রশাসনের নিজেদের ব্যবস্থাপনায় গাছ রোপণ করে ফুটানো হচ্ছে।