পরশুরামে চলছে মুহুরী নদীর বেড়ি বাঁধের মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এই মাটি যাচ্ছে আশ পাশের বিভিন্ন ইটভাটায়। এ ভাবে মাটি কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে স্থানীয় পৌর এলাকা বিভিন্ন গ্রাম বন্যা কবলিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার উত্তর বাজারের খোন্দকিয়া দাসপাড়ার সামনে, নিজ কালিকাপুর ও নোয়াবাজার সেতু সংলগ্ন এলাকায় বেড়ি বাঁধের চরের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন রাত ১২টার পর শুরু হয় মাটি কাটা।
এতে ব্যবহার করা হয় এক্সকাভেটর। ১০-১২টি ট্রাক-ট্রলি দিয়ে এসব মাটি নেওয়া হয় পাশের কয়েকটি ইটভাটায়। প্রতিদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাটার মহোৎসব চলে। রাতভর পরশুরাম বাজারের প্রতিটি সড়কে চলে মাটি বহনের গাড়ি। সোমবার ৩০ জানুয়ারি সরেজমিনে দেখা গেছে, খোন্দকিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে গেছে। সেখানকার বাসিন্দা রাবেয়া আক্তার ও তাঁর ছেলে সৌরভ জানান, খননযন্ত্র দিয়ে প্রতিদিন রাতে মাটি কেটে নিয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসনের লোকজন আসার খবর শুনলে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে আবার মাটি কাটা শুরু করে।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবাধে কৃষিজমির মাটি কেটে নিচ্ছে একটি চক্র। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ওই চক্র দিনরাত সমানতালে মাটি বিক্রি করছে। এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, ছাগলনাইয়ার আবুল কালাম, মির্জানগর ইউনিয়নের কাউতলী গ্রামের আবদুল মুনাফ এবং বিলোনিয়ার হাবিবুর রহমান হাবিব রাতে এক্সকাভেটর দিয়ে বেড়িবাঁধের মাটি কেটে বিক্রি করছেন। মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিব বলেন, মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন কাউতলী গ্রামের আবদুল মুনাফ। তিনি নদীর দুই পাশের মাটি কেটে নিয়ে গেছেন। ওই স্থানের মাটি হাবিব কাটেনি বলে দাবি করেন। এ নিয়ে জানতে মুনাফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
যোগাযোগ করা হলে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা হাবিব শাপলা জানান, মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের পাশের মাটি কাটার অভিযোগ পেয়ে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু মাটি ব্যবসায়ীরা যেহেতু পাহারাদার বসিয়ে রাখেন, তাই তাদের এখনো ধরা যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।