শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চয়তায় পড়া বাংলাদেশের সফরটি আয়োজনের। কারণ এটা দিয়েই করোনা-পরবর্তী ক্রিকেটে ফিরতে চাইছে তারাও। এর মধ্যে তারা বাংলাদেশ দলের কোয়ারেন্টাইনের গাইডলাইন শিথিলের অনুরোধ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। ক্রীড়ামন্ত্রী ও বোর্ড প্রেসিডেন্ট বৈঠক করেছেন দেশটির সেনাপ্রধানের সঙ্গে।
সাত দিন করে দুভাগে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের প্রস্তাব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। ক্রিকইনফোকে এ কথা জানিয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাভিন বিক্রমারতেœ বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দেশে সাত দিন কোয়ারেন্টাইন করে কলম্বো যাবে। সেখানে গিয়ে আবার সাত দিনের কোয়ারেন্টাইন করবে। তিনি জানান, ‘কভিড-১৯ টাস্কফোর্সের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। সবাই একমত যে, এই সফর হওয়া উচিত।’
২৭ সেপ্টেম্বর তিন টেস্টের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা। বিসিবি জানত সেখানে গিয়ে দলের সাত দিন কোয়ারেন্টাইন করলেই চলবে। কিন্তু সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন অনুসারে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট কর্র্তৃপক্ষ ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনসহ কয়েকটি শর্তের কথা জানায়। বিসিবির পক্ষ থেকে এর জবাবে জানানো হয়, এসব শর্ত মেনে সফর সম্ভব নয়।
এতে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা ও ক্রীড়ামন্ত্রী নামাল রাজাপাকসে বৈঠকে বসেন। এরপর বাংলাদেশ দলের জন্য কোয়ারেন্টাইন গাইডলাইন শিথিল করতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশ দল ৭ দিনের কোয়েরেন্টাইন করে ‘বাবল’-এ ঢুকে পড়বে। ইংল্যান্ড বোর্ড যেমনটা করে সাফল্যের সঙ্গে শেষ করেছে উইন্ডিজ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ।
শ্রীলঙ্কা বোর্ড ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে। ৩০ জনের চেয়ে বড় বহর নিয়ে বাংলাদেশ যেতে পারবে না। এমন শর্তও ছিল। ৩৫ জনের দল পাঠানোর অনুরোধ শ্রীলঙ্কা বোর্ডের। তারা এরপর সহায়তা চেয়েছে শ্রীলঙ্কা আর্মির। শাম্মি সিলভার নেতৃত্বে তাদের বোর্ডের একটি দল সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছে আর্মি হেড কোয়ার্টারে।
বাংলাদেশের আসন্ন সফর ও নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ ২০২০ নির্বিঘ্নে শেষ করতে কমান্ডারের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তারা। এ সংক্রান্ত ব্লুপ্রিন্ট প্রটোকলের একটি কপিও সেনাপ্রধানকে দেওয়া হয়েছে।