বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা অবশ্যই গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। তাকে মুক্ত করতে দেশে-বিদেশে জনমত তৈরিতে কাজ করছে বিএনপি।
বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের তাঁতীপাড়ায় পৈতৃক বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের মতবিনিময় শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এ সময় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিত প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা সরকারে দায়িত্ব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রে ভোটার যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। ভোট দিয়ে জনগণ নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।’
‘কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তার উল্টোটা করছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করছে তারা। বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আবারও সেই দৃশ্য দেখেছে দেশের মানুষ’ যোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশের মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে এই সরকার। মানুষ তার ন্যূনতম মৌলিক অধিকার পাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘আইসিটি বা তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়ে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। সাংবাদিক কাজল এ কারণে মুক্ত হতে পারছেন না। সংবাদমাধ্যমগুলোতে সরকার সেন্সরশিপ জারি করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে মুক্ত সাংবাদিকতা বলে কিছু নেই।’
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘তার ক্রিয়েটিভ আইডিয়া রয়েছে। তাকে বিএনপি পৃষ্ঠপোষকতা করে না। তবে সে সত্য কথা বলে। যে কেউ সত্য কথা বললে তাকে সমর্থন করা হয়।’
এছাড়া শারদীয় দুর্গোৎসবে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা এবং সরকারের দ্বৈত নীতির কারণে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, গরিব মানুষ আরও গরিব হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে যাওয়ায় তারা দুঃখ-কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন, দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কাউন্সিলর আতাউর রহমান, মটর পরিবহন শ্রমিক নেতা আবদুল জব্বার, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন প্রমুখ।