(১লা নভেম্বর ) রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় আসন্ন পৌর নির্বাচন উপলক্ষ্যে উত্তরবঙ্গ সাংবাদিক সংস্থার কার্য্যলয়ে নির্বাচনী মত বিনিময় করেন, শেরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি বদরুল পোদ্দার ববি। মত বিনিময়কালে তিনি বলেন বস্তুনিষ্ঠ আর সত্য প্রকাশের মাধ্যমে আপনারাই পারেন জনসচেতনতা তৈরী করে চরম বিপর্যয় থেকে সমাজকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে। আপনারা সবাই স্থানীয় সাংবাদিক, এবং আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা আমার সমবয়সী। তাই রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল থেকে কিভাবে আমি আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে নিয়ে এই পযর্ন্ত উঠে এসেছি, সেই সম্পর্কে নিশ্চয়ই আপনারা অবগত আছেন। পাশাপাশি বিগত দিনে এই শেরপুরের মাটিতে দলের যখন চরম দুঃসময় ছিল, সেই সময় অনেকেই আওয়ামীলীগকে ভালবাসলেও সাহস করে মুখে আওয়ামীলীগের নাম নিতে পারতোনা । ঠিক সেই সময়ে দলের জন্য আমি কি ভূমিকা পালন করেছিলাম সে সম্পর্কেও আপনারা অবগত। তারই ধারাবাহিকতায় আমি আপনাদের জানাচ্ছি যে, আসন্ন শেরপুর পৌর নির্বাচনে, আমি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যশী। আপনারা সহ প্রতোক পৌরবাসী পৌর শহরের বতর্মান চিত্র সম্পর্কে অবগত, দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে পৌরবাসী তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবে বলে আমি শতভাগ বিশ্বাস করি। আর আমি মেয়র নির্বাচিত হলে, পৌরসভার প্রতিটি ওর্য়াডের যে জরাজীর্ণ চিত্র,তার পরিবর্তন ঘটিয়ে পৌরবাসীদের একটি মডেল পৌরসভা উপহার দিব ইনশাআল্লাহ। এসময় তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা দিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন তুলে ধরে বলেন, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী ডিজে হাইস্কুলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর, ছয় কোটি সাতাশি লক্ষ পাঁচ চল্লিশ হাজার টাকার উন্নয়ন কাজ, পৌরসভার শ্রীরামপুর পাড়ায় চার কোটি টাকা ব্যায়ে ড্রেনেজ এবং লাইটিং ব্যাবস্থাপনার উন্নয়ন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি ভাতা শতভাগ নিশ্চিত এবং বিধবা ভাতা আশি ভাগ নিশ্চিত করেছি। তাছাড়াও শ্রীরামপুরপাড়া বাসীদের সহযোগিতায় একটি মসজিদের নির্মান কাজ চলমান, এবং পশ্চিম দত্তপাড়ায় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসব পালনের সুবিধার্থে তাদের সহযোগিতা নিয়ে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জমি ক্রয় করেছি। আমাকে পৌরমেয়র নির্বাচিত করে পৌর নাগরিকদের সেবা করার দিলে আমার উন্নয়নের এই ধারা আরও গতিশীলতা পাবে। তাই পৌরবাসীদের নিয়ে আমার লালিত যে ভাবনা তার মধ্যে আছে, পৌরবাসীর জন্যগ্যাস সরবরাহ, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন, শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি পার্ক, পৌরবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ্যাম্বুলেন্স সহ ডাক্তার নার্স এবং ঔষধ সরবরাহ করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, অবহেলিত বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের জন্য একটি বৃদ্ধাশ্রম স্থাপন করা, পৌরবাসীর নিরাপত্তায় পৌর পুলিশ নিয়োগ, বিভিন্ন খেলাধুলার প্রশিক্ষণ ব্যাবস্থার মাধ্যমে যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা,ময়লা আবর্জনা অপসারণের জন্য রাত্রীকালীন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ, পৌরসভার পক্ষ থেকে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান, পৌরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারিদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ সহ গ্র্যাচুইটি সুবিধা এবং সকলের সহযোগিতায় শেরপুরকে মাদক মুক্তসহ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস,ও দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া। যদিও পৌরসভার বর্তমান যে চিত্র তার পরিবর্তন ঘটানো খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর কারণ হচ্ছে আমাদের দূর্ভাগ্য যে শুধুমাত্র কাগজ আর কলমে আমাদের এই পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও বাস্তবে তার মর্যাদা পায়নি, এই পরিস্থিতির উত্তরণ শুধুমাত্র কোনো এক মেয়রের পক্ষে সম্ভব নয় সেটা যেকোনো ব্যাক্তি মেয়র হোকনা কেন । সেইক্ষেত্রে পৌরবাসীদের সহযোগিতাতাই হচ্ছে এই পরিস্থিতি সমাধানের মূল মন্ত্র, অর্থাৎ মেয়র নয় বরং পৌরবাসীরাই পারে পৌরসভা তথা পৌর শহরের উন্নয়নের জোয়ার বয়ে আনতে । কারণ, বিগত বছরে যারা মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন তারা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়া পৌরসভার কার্যতঃ কোনো ভূমিকা পালন করেননি, যেহেতু জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস সেই অর্থে যারা পৌরসভার সাধারণ নাগরিক তাদের পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে উৎসাহি করেননি,আমি এটা এই জন্য বলছি, যে সময়ে এই পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে সেই সময়ে যে বা যারা মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন তারা ভূল তথোর মাধ্যমে এই পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করার কারণে পৌরসভাটি সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আর পৌরবাসী বঞ্চিত হচ্ছে, পৌরসভার সব ধরনের উন্নয়ন থেকে। ফলশ্রুতিতে বর্তমান মেয়র সবকিছু সামাল দিয়ে পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন, এখানেই শেষ নয়, যে বা যারাই পৌর মেয়র নির্বাচিত হবেন ঠিক এই একই পরিস্থিতির শিকার হবেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন একটি পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করতে তিনটি স্তরের প্রয়োজন হয়। (১) যে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হচ্ছে সেই পৌর এরিয়ার মধ্যে কোনো ফসলি জমি থাকা যাবেনা (২) ঐ পৌরসভার মধ্যে অন্তত ৫০% বিল্ডিং থাকতে হবে (৩) কোটি টাকার উপরে পৌরসভার রাজস্ব আয় থাকা প্রয়োজন, নইলে পৌর সংবিধান অনুযায়ী কোনো পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা যাবেনা। আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে তহলে এটা কি ভাবে হলো, ঐযে বললাম ভুল তথোর মাধ্যমে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আপনারা গণমাধ্যমকর্মী, আপনাদের অধিকার আছে প্রতোক সেক্টরের তথ্য সংগ্রহ করা, তাই আপনারা তথ্য নিন, যে পৌরসভায় এখনো পযর্ন্ত আশি লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় হয়না সেই পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়া সময়ে কত টাকা রাজস্ব আয় হত আর কি পরিমান বিল্ডিং ছিল? কোন তথোর ভিত্তিতে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে আজ প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা থেকে সরকারের কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয় না হওয়ার কারণে সরকারি অনুদান না পাওয়ায় পেীরসভাটি সকল উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।