ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের চম্পক নগর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন এর কন্যা ইসরাত জাহান,, ফেনী সরকারি কলেজ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি গত ১৫ই অক্টোবর ডান হাতের আঙ্গুলে আঁচিল দেখা যাওয়ায় ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। ইসরাত জরুরী বিভাগে পৌঁছার পর পরই মাস্টার রোলে চাকুরীরত নুরুল করিম (সোহেল) নামে এক কর্মচারী রোগিকে ফুসলিয়ে নিজের দক্ষতার কথা প্রকাশ করে আঁচিল কাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ধরনের চিকিৎসার কাজ পূর্বেও অনেকবার করেছে বলে রোগীকে আশ্বস্ত করে সোহেল। দুইশত টাকার বিনিময়ে রোগীর আঁচিল কেটে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ৭ দিন পর ড্রেসিং করতে আবার আসতে বলা হয়। ড্রেসিং এর জন্য জরুরী বিভাগে আসার পর ক্ষতস্থান না শুকানোর আগেই সেলাই কেটে দেয়া হয়। আংগুলের অবনতি পরিলক্ষিত হলে এ রোগী ইসরাত জাহানকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার আঙ্গুলের অবস্থা খুবই নাজুক।
ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ইসরাত নিজে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ শিহাব উদ্দিন রানা, তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ প্রদান করেন হাসপাতালের প্রধান শিহাব উদ্দিন। তদন্ত কমিটির সদস্যগণ হলো ডাক্তার শামীমা আক্তার ,জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ছাগলনাইয়া ফেনী, ডাক্তার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, মেডিকেল অফিসার,ডাক্তার মোঃ শোয়েব ইমতিয়াজ ,আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাগলনাইয়া ফেনী।
ইসরাত জাহান এর বাবা দেলোয়ার হোসেন দৈনিক প্রথম সময়ের প্রতিবেদককে জানান আমার মেয়ের মতো আর কাউকে যেন এই প্রতারক ভুল চিকিৎসার না দেন এবং এই প্রতারক এর শাস্তি দাবি জানিয়ে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি । আমি ছাগলনাইয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি ।