ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় আধুনিকযন্ত্র রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ’র কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর আয়োজনে উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা কৃষি পূর্ণবাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোঃ ওয়াহিদুজজামান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও জেলা কৃষি পূর্ণবাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবু তাহের ও ফেনী প্রেসক্লাব’র সভাপতি ও দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক জসীম মাহমুদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা কৃষি পূর্ণবাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব শারমীন আক্তার, কালিদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যার দিদারুল ইসলাম, কাজীর বাগ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী বুলবুল আহমেদ সোহাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এস শাহুদুল হক বুলবুল।
রবি ২০২০/২১ মৌসুমে বেরোধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমলয় চাষাবাদ প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় বাস্তবায়িত ব্লক প্রদর্শণ করা হয়। সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের আলোকদিয়া ও ভালুকিয়া গ্রামের ৫০ একর জমির মধ্যে প্রাথমিকভাবে এ কর্মসূচী চলমান থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান বলেন, দেশে দিন দিন জমির পরিমাণ কমছে, মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সনাতন নিয়মে চাষাবাদ করে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হলে চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তির যান্ত্রিকীকরণ প্রয়োজন। আর সে কারণেই সরকার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের মাধ্যমে নানামুখী কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এক টুকরো কৃষি জমিও খালি রাখা যাবেনা। কৃষি জমির যথাযত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পারতপক্ষে আপনারা নূন্যতম ৪/৫ টি করে গাছ লাগান। এটা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে ছেড়ে দিন। এ গাছে ১টি পাখিও যদি বসে তাহলেও আপনি সওয়াব পাবেন।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য শেষে সাংবাদিক জসীম মাহমুদ উপস্থিত মেহমানদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা যেখানে দাড়িয়ে আছেন এই জমি ২ বছর আগেও ৩ ফসলী ছিলো। বর্তমানে এসব জমিতে ১ ফসলও হয়না। কেননা ফেনী শহরের শতকরা ৮০% বর্জ্য কচুয়া খাল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার দরুন পানি নষ্ট হয়ে এতো বেশি দূষিত হয়েছে যে এই নদীর পানির দূর্গন্ধে কাছেই যাওয়া যায় না। নদীর পানিতে প্রচুর পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা। এতে ফসল জ্বলে যায়। ফলে কয়েকহাজার একর ফসলী জমি পানির অভাবে ফসলশূণ্য বা অনাবাদি রয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। প্রতিউত্তরে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, আশপাশে বসবাসকারী সকলের সচেতনতার উপর নির্ভর করে পরিবেশ। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলাপ করে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এস শাহুদুল হক বুলবুল’র মালীকানাধীন আলোকদিয়া এগ্রো ফিসারিজ সম্বনিত খামার কেক কেটে উদ্ধোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান।