ফেনীর ফুলগাজীতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় পুলিশ সদস্যকে রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অভিযুক্ত কনস্টেবল ওহিদুল আলম শাওন রাঙামাটিতে একটি ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।
শুক্রবার ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম শাওনকে (২১) কারাগারে পাঠায়।
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলায় জবানবন্দি দেয় ওই স্কুলছাত্রী। সে ফুলগাজীর একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত ১২ ফেব্রুয়ারি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন নির্যাতিতা।
আদালত সূত্র জানায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে শাওন ফুলগাজী থানায় কর্মরত থাকাকালে এক বছর আগে ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়। তার গর্ভে সন্তান চলে আসে। বারবার শাওনকে বিয়ে করার চাপ দেওয়া হলেও সে রাজী হয়নি। পারিবারিকভাবে চেষ্টা করেও ফল পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে আসামিদের চাপে শিশুটিকে গোপনে অন্যত্র দত্তক দেওয়া হয়েছে।
পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীটি ফুলগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। থানার উপপরিদর্শক রাশেদুল ইসলামকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মামলায় বলা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ছাত্রীটির সঙ্গে সখ্য এবং একদিন ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে ফেনী শহরের কোনো একটি বাসায় নিয়ে ফলের জুসের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলে ছাত্রীটি যখন বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করে তখন তার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এভাবে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে সে।
অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে জানালে তিনি নানা কৌশলে এড়িয়ে যেতে থাকে। মামলার এজাহার এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হাকিমের সামনে এমন জবানবন্দি দেন ওই ছাত্রী। সন্ধ্যায় কোর্ট পরিদর্শক গোলাম জিলানী আদালতে ২২ ধারায় বয়ান দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং কারাগারে প্রেরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলবে।