1. admin@dailyprothomsomoy.com : admin :
  2. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হাদিকে হত‍্যাচেষ্টার প্রতিবাদেব শেরপুরে গণ অধিকার পরিষদের মশাল মিছিল শেরপুরে দইয়ের বাজারে ধস বিপাকে খামারীরা শেরপুরে বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও গণ দোয়া  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনী জেলা যুবদলের উদ্যোগে ফুলগাজীতে স্বেচ্ছাশ্রমে বেগম খালেদা জিয়া সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন ছাগলনাইয়া ছাত্রদলের ফ্যাস্টিবল ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ফুলগাজীতে শেখ নুর উল্ল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা ও মাদ্রাসায় ফেনী বন্ধুসভার খাবার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ  ছাগলনাইয়ায় নিজপানুয়া যুব সংঘের কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন ও মাদক বিরোধী সমাবেশ হয়েছে ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে কলেজ ছাত্রদলের বই উপহার ছাত্রদলের উদ্যোগে ফেনী সরকারী কলেজে উন্মুক্ত লাইব্রেরি উদ্বোধন  ফেনী জেলা সিএনজি মালিক সমিতির আত্মপ্রকাশ  ফেনীর সোনাগাজীর সোনাপুরে প্রবাসীর ঘরে দূর্ধর্ষ চুরি আলহাজ্ব আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রী কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ ৩ জন গ্রেফতার  সাংবাদিক পিনু শিকদারকে নিয়ে ফেক আইডি থেকে অপপ্রচার, থানায় জিডি নিজাম হাজারীর নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শাহ আলম এখনো প্রকাশ্যে ঘুরছে নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরেই, তবে ২৬’র জুনের পর নয়: প্রধান উপদেষ্টা ছাগলনাইয়ার জয়পুর চ্যাম্পিয়ন শীপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারীরা কেউ টাকা মেরে চলে যায়নি:প্রধান উপদেষ্টা বিসিবির গঠনতন্ত্রে অসঙ্গতি পেয়েছে দুদক ফেনীতে বিজিবি’র হাতে আটক ভুয়া এনএস আই কর্মকর্তা

কবরীর হাসি ভোলাতে পারেনি কেউ / দৈনিক প্রথম সময়

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

কবরীর প্রথম ছবি ‘সুতরাং’-এর ‘নদী বাঁকা জানি’, ‘নীল আকাশের নীচে’ ছবির ‘গান হয়ে এলে’ বা পরবর্তীকালে বিখ্যাত ‘সুজন সখী’র ‘গুন গুন গাহিয়া’— এমন অসংখ্য গানের কথা বলা যায় যাদের ঝিরঝিরে ভিডিও এখনো দেখা যায় কবরীর হাসির জন্যই।

এ শুধু একঝলক দেখার কথাই হলো। কিন্তু হাতে একটু সময় থাকলে কবরীর যেকোনো ছবিই দেখা যায়, তার সহজাত অভিনয় প্রতিভার এমনই গুন। সমসাময়িক নায়িকা শাবানার সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করেছিলেন ‘বধূ বিদায়’ সিনেমায়। বিয়োগান্ত চরিত্রে দেখা দিলেও দর্শক তার দুঃখটাকেই আপন করে নিয়েছেন। তিনি যে আমাদের ‘দেবদাস’-এর পাবর্তী অথবা ‘ময়নামতি’র ময়না। স্মরণ করা যায় ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রির প্রথম অ্যাকশন সিনেমা ‘রংবাজ’-এর ফুলের মালা হাতে নেওয়া অভিমানী মেয়েটিকে, যে গাইছে ‘সে যে কেন এলো না’।

হাসি ও সহজ অভিনয়ের জন্য কবরীর খ্যাত হয়েছিলেন ‘মিষ্টি মেয়ে’। ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ ইমেজও রয়েছে। সেই ১৯৬৪ সালে কবরীর প্রথম সিনেমা মুক্তি পায়। ১৯৮০ এর দশকে তিনি নায়িকা চরিত্র থেকে অবসর নেন। এর মাঝে কত নায়িকা-অভিনেত্রী এসেছেন ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রিতে। দেশ ও দেশের বাইরে পেয়েছেন খ্যাতি। কিন্তু মিষ্টি মেয়ে একজনই কবরী। কেউ তার হাসি ভোলাতে পারেননি। আইকনিক হাসি তাকে দর্শকের মাথার মুকুটে রেখেছে, দিয়েছে স্বতন্ত্রতা। হয়তো ঢালিউডের ইতিহাসে এমন কেউ আসবেন না।

অভিনয় প্রতিভার দিক থেকে যেকোনো চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল কবরীর। সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরাও কবরীকে যতটা নিজেদের মানুষ হিসেবে ভাবতে পেরেছিলেন, হয়তো অন্য কোনো অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে পারেননি। তার সিনেমা গ্রাফে আছে নানান ধরনের চরিত্র। গ্রামীণ ও ফোক-ফ্যান্টাসিতে যতটা সাবলীল, ঠিক তেমন শহুরে তরুণী চরিত্রে মানানসই। আর এ কারণে নানা প্রজন্মের দর্শকের ভালোবাসা সব সময় তার পাশে ছিল।

এই যেমন তার সহকর্মী সোহেল রানা বলছেন, “কবরীকে মানুষ মনে করতো, এই শিল্পীটা আমার শিল্পী। আমার কাছের মানুষ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কবরীর মতো মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি প্রিয় শিল্পী আর কেউ নেই।”

সোহেল রানার সঙ্গে তার অভিষেক সিনেমা ‘মাসুদ রানা’য় অভিনয় করেছিলেন কবরী। স্পাই থ্রিলার ধাঁচের ওই ছবিতে কবরীর চরিত্র সহজ-সরল তরুণীর। ছবির মেজাজের সঙ্গে বিপরীত একটা চরিত্রে ভীষণ নজর কাড়েন তিনি।

২০১১ সালে এক সাক্ষাৎকার থেকে কবরীর মুখে সেই সাক্ষ্য পাওয়া যায়। তিনি বলেছিলেন, “এখনো দেখা হলে কেউ কেউ বলে, ‘আপনি ঠিক আগের মতোই আছেন।’ কিন্তু কেউ কি কখনো একরকম থাকতে পারে! তখন আমি তাকে বলি যে আপনি আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন বলেই এ রকম মনে হয়।”

ঠিক এ কথার প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কবরীর মৃত্যুর খবরে মাঝরাতে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তার হাসি, সহজ ও পড়শিসুলভ অভিব্যক্তি ও অভিনয়ের কথা টানছেন তারা।

কবরীর সম্পর্কে চিত্র সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী বলছিলেন, “মিষ্টি মেয়ে’ ছাড়া তিনি ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। কারণ তার চেহারায়, আচরণে, অভিনয়ে সেই বিষয়টা ছিল। খুব বেশি মেক আপ করতো না, এমনকি চুলটাও একদম সাধারণ একটা মেয়ের মতো রাখতো। যার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে খুব আপন হয়ে ধরা দিতো।”

সিনেমার সাবলীলতার সূত্র অনেকে ব্যক্তি কবরীর মাঝেও খুঁজে পেয়েছেন। তাকে নিয়ে এ প্রজন্মের নির্মাতা তাসমিয়াহ আফরিন মৌ বলছিলেন, “কবরী আপার সঙ্গে কাজের সূত্রে পরিচয়। তার বাসায় দুইবার শুটিং করেছি। আমার আগের অফিসের কাছেই তার বাসা ছিল। মাঝে মাঝেই বাসায় ডেকে নিতেন। খুব নিঃসঙ্গ ছিলেন, তার তরুণ মনটি সব সময় একজন সঙ্গী খুঁজত। এমনিতে বেশ মেজাজ দেখালেও তার সঙ্গে একটু বেশি মিশলেই ভেতরের নরম আর রোমান্টিক মনটাকে কিছুটা ধরা যেতো।”

১৯৫০ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে জন্ম হয় কবরীর। তার আসল নাম ছিল মিনা পাল। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবির মধ্যে দিয়ে সিনেমায় অভিষেক, সেসময়ই নতুন নাম হয় কবরী। সংসদ সদস্য নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাহ বেগম কবরী এ নামটি সামনে আসে।

সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সুতরাং’ কিশোরী কবরীকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এরপর রংবাজ, নীল আকাশের নীচে, দ্বীপ নেভে নাই, দর্পচূর্ণ, সাত ভাই চম্পা, অরুণ বরুণ কিরণমালা, তিতাস একটি নদীর নাম, সুজন সখী, আরাধনা, ময়নামতি, সারেং বৌ, বধূ বিদায়, দেবদাস-সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল ও ক্ল্যাসিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। শেষবার নিজের পরিচালনায় ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন, কবরীর মৃত্যুতে সেই ছবি আপাতত অসমাপ্ত।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD