টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ১নং ভারড়া ইউনিয়নের ৯৮ নং আটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে, ক্ষমতার অপব্যবহার অনিয়ম আর দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতাবলে তার সরকারি চাকুরীজীবী স্বামী রফিকুল ইসলাম হাবলুকে দিয়ে স্কুলের যাবতীয় কাজ করার অভিযোগ এনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি৷জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে ৯৮ নং আটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি ৷ একক ক্ষমতাবলে তার সরকারী চাকুরীজীবী স্বামীকে দিয়ে স্কুলের যাবতীয় কাজ করিয়ে থাকেন।তার স্বামী বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ আরিচা রেঞ্জে কর্মরত আছেন।কর্মরত থাকলেও বেশীরভাগ সময় তিনি নিজ এলাকাতেই অবস্থান করেন।যা সরকারী চাকুরী বিধি ও শৃংখোলা ভঙ্গের শামিল। প্রভাবশালী হওয়ায় তার এহেন অবৈধ বিধি বহির্ভুত কাজে কেউ বাধা দিতে পারে না। বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ করার সুবিধার্থে তিনি নিজের খেয়াল খুশি মত স্লিপ প্লান তৈরী করেন এবং মনগড়া ভুয়া স্লিপ রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে রাখেন ৷ বিদ্যালয়ে সরকার নির্ধারিত উপস্থিতির সময় ৯:০০ টা এবং বিদ্যালয় ত্যাগের সময় ৪:৩০ হলেও তিনি নিজের খেয়াল খুশি মত ১০.০০ ঘটিকায় স্কুলে উপস্থিত হন এবং ৩.০০ ঘটিকা নাগাদ বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে ৷ এ ছাড়াও স্কুল চলাকালীন সময়ে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান না করে খোশ গল্পে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ ও পাওয়া যায়।
তার বিরুদ্ধে সর্বাধিক গুরুতর অভিযোগ হল, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন ৷বিল ভাওচার প্রস্তত করে ব্যয় দেখানো,বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করে আত্বসাৎ করা।সভাপতিকে মূর্খ বলে অপমানিত করা ও গোপনে সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে সলা পরামর্শ করে সুকৌশলে নতুন সভাপতি হিসাবে চিহ্নিত দূর্নীতিবাজ জেল খাটা আমিরুল ইসলাম মুকুলকে বসাতে চাওয়া।পরবর্তীতে গত ২৫ জুলাই নতুন ম্যানেজিং কমিটির সভা আহবান করা হয় উক্ত সভায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রতিবাদকারী এক অভিভাবক সদস্য শিক্ষানবীশ আইনজীবী মোঃ নাসির হাসান ও সাবিনা ইয়াসমিন কে স্থানীয় বখাটে মাস্তান দিয়ে পিটানো।এ ব্যাপারে বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের স্থায়ী জমি দাতা সদস্য মোঃ আতোয়ার সরকার উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ৷ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সভাপতি মোঃ আতোয়ার সরকার জানান,স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছে তাছাড়াও প্রধান শিক্ষিকা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত তাই আমি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি ৷
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুফিয়া বেগম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়েরের কথা স্বীকার করলেও তা মিথ্যা বলেন ৷ তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল ও তার স্বামীকে দিয়ে স্কুলের কাজ করানোর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এসব কিছুই মিথ্যে ৷
এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আঃ রশিদ বলেন, আটাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে অনিয়ম ও বিভিন্ন দূর্ণীতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই বাছাই ও প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দেশ যখন ডিজিটালের ছোঁয়ায় উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে তখন কোমলমতি শিশুদের মানুষ হিসাবে গড়ার কারখানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতি শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য বড় বাধা হিসাবে কাজ করবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী ৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশাবাদী এলাকাবাসী ৷