বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বেঁধে দেওয়া দামে দেশের কোথাও এলপিজি কিনতে পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ সর্বত্র। কিন্তু সৌদি সিপির দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি মাসের জন্য এলপিজির দাম আবারও বাড়ানোর আদেশ দিতে যাচ্ছে বিইআরসি। কমিশন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এজন্য আজ রোববার দুপুর ১২টায় ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনসহ মূল্য সমন্বয় সংক্রান্ত আদেশ ঘোষণা দেওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে কমিশন। সৌদি আরামকো কর্তৃক প্রোপেন ও বিউটেনের ঘোষিত দাম আমলে নিয়ে প্রতি মাসের শেষে আগামী মাসের জন্য এলপিজি ও অটো গ্যাসের দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। তবে এবারই প্রথম ১০ তারিখে নতুন দাম ঘোষণা দিচ্ছে কমিশন। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) তৈরিতে অপরিহার্য দুটি কাঁচামাল বিউটেন ও প্রোপেন গ্যাস। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে পণ্য দুটির মূল্য এখন রেকর্ড সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর মাসে জন্য দাম ঘোষণার সময় এলপিজির কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেন মিশ্রণের টনপ্রতি দাম ধরা হয় ৬৬৫ ডলার। সে হিসাবে গত ৩১ আগস্ট ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দর ১০৩৩ এবং সাড়ে ১২ কেজির দর ১০৭৬ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্য দুটির দাম বেড়েছে ১০০ শতাংশেরও বেশি। গত বছরের অক্টোবরে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম ছিল টনপ্রতি যথাক্রমে ৩৭৫ ও ৩৮০ ডলার। সৌদি আরামকো কোম্পানির মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে এলপিজির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত প্রোপেনের দাম বেড়ে দাঁড়ায় টনপ্রতি ৮০০ ডলার, বিউটেনের মূল্য ৭৯৫ ডলার। ফলে অক্টোবর মাসের জন্য সরকারি ঘোষণাতেই এলপিজির দাম বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমিশনের এক সদস্য সময়ের আলোকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমাদের এখানে বাড়বে, এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। কারণ এই কাঁচামাল আমদানি করে বিক্রি করতে হয়। দাম কমলে আবার কমানোর আদেশ দেওয়া হবে। অতীতে দাম কমানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের এ বিষয়ে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে হারে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম বাড়ছে তাতে গ্রাহকদের সুলভে এলপিজি সরবরাহ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সিইও সামসুল হক সময়ের আলোকে জানান, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ক্রমেই বাড়ছে, এটা আশঙ্কার। এতে সাধারণ মানুষের একটু কষ্ট হবে। বেশি দামে কিনতে হবে। আশা করি বিইআরসি যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের কোথাও এই দামে এলপিজি কিনতে পারেনি ক্রেতারা। কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে কমপক্ষে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে।
মগবাজার এলাকার আতিক জানান, তিনি গত দেড় মাস আগে সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১২০০ টাকায়। ওই সিলেন্ডার শেষ হওয়ায় ফের গতকাল দোকানে যোগাযোগ করেন এবং অনেক দরদাম করে সাড়ে ১৩০০ টাকায় সিলিন্ডার কেনেন। আতিক বলেন, এভাবে প্রতি মাসে গ্যাসের দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাস ব্যবহার করা দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।