পরশুরাম উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন সহ মুহুরী নদীর শালধর বাজার ব্রীজ সংলগ্ন কৃষি জমির মাটি দিনে দুপুরে কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ মাটি ব্যবসায়ীরা।
সরকারি বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে লেবার দিয়ে দিনে দুপুরে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে গেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। আর এইসব মাটি আশেপাশের ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করছে সিন্ডিকেট দলের সদস্যরা। এতে করে কৃষি জমির পাশে মুহুরী নদির উপর নির্মিত ব্রীজটি ধসে পড়ার উপক্রম রয়েছে। নদির উপরিভাগে কৃষি জমির মাটি নেওয়ার পর গভীর গর্তে করে উত্তোলন করা হয়েছে বালি। আর এইসব বালি চড়া দামে বিক্রি করছে মাটি ব্যবসায়ীরা। নদীর পাশে কৃষি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়বে আশেপাশের গ্রাম ও ফসলী জমি। নষ্ট হবে শত হেক্টর আবাদি জমির ফসল।এছাড়া বসতবাড়ি পানিতে ডুবে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। তাছাড়া পাশ্ববর্তী বিভিন্ন ফসলী জমি থেকে জমির মালিকের অজান্তে অহরহ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উর্বর মাটি। মধ্যমধনিকুন্ডা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ইটভাটার মালিক ও কতিপয় মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। ফলে উজাড় হচ্ছে আবাদি জমি।একাধিক ব্যক্তি স্থানীয় প্রশাসনকে অভিযোগ দিলেও এবিষয়ে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। পরশুরাম উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, লেবার দিয়ে জমিতে গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে জমির উর্বরতা শক্তি থাকে।আর বারবার তা খোঁড়া হলে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন স্থায়ীভাবে একেবারে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের একজন জানান এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িতরা এতই প্রভাবশালী যে তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন কৃষক জানান ৫-৬ জনের একটি সিন্ডিকেট দল এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের নেতৃত্বে দিনে দুপুরে আমাদের কৃষি জমির মাটি কেটে গভীর গর্ত খুঁড়ে বালি উত্তোলন করে নিয়ে গেছে চক্রটি।
এতে বর্ষা মৌসুমে আশেপাশের ফসিল জমি যেমন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দত্ত বলেন, যারা বিধি নিষেধ উপেক্ষা করছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে উপজেলার কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।