বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ২৪ তারিখ। আজ-কালের মধ্যে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হবে। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দৈনিক প্রথম সময়কে এ কথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার মেজো বোন সেলিমা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করা হবে। বিষয়টি ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারই দেখাশুনা করেন। আজ-কালের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।’
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। প্রতিদিনই মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ম্যাডামের গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।’
এদিকে শনিবার এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ২৪ তারিখ। এখন পর্যন্ত তার পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে আবেদন পেলে আরও ছয় মাস মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে।’
প্রসঙ্গত, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। দেশে করোনা মহামারি শুরু হলে তার বিশেষ মুক্তির আবেদন জানায় পরিবার। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। এরপর একই প্রক্রিয়ায় কয়েক দফা মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মুক্তির শর্তে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত।
রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। এই মামলায় আপিলে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর তার সাজা আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছর করে দেন হাইকোর্ট। ঠিক আগের দিন ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।