ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহর ঢাকা সফরে তিনটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এগুলো হলো-দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল, অভিবাসন সহযোগিতা এবং সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত নাবিকদের সনদ দেওয়া। এ ছাড়া ব্রুনাই থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ব্রুনাইয়ের সুলতানের সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, আগামী ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর ব্রুনাইয়ের সুলতান ঢাকা সফর করবেন। বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহকে অভ্যর্থনা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ সময় সুলতানকে গার্ড অব অনার ও লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তার সম্মানে দেওয়া হবে ২১ বার তোপধ্বনি। ব্রুনাইয়ের রাজপরিবারের সদস্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দেশটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সুলতানের সফরসঙ্গী হবেন।
সফরকালে সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। সুলতান সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। এর মধ্যে ব্রুনাই এবং ইন্দোনেশিয়া অন্যতম। ব্রুনাইয়ের সুলতানের ঢাকা সফরে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রুনাই তাদের ‘ভিশন ২০৩৫’-এর আওতায় গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানির মতো খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী। জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ উচ্চ আয়ের দেশ ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা স্থাপনের মধ্য দিয়ে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। মন্ত্রী জানান, সুলতান হাসানাল বলকিয়াহর এই সফর উপলক্ষে এরই মধ্যে ঢাকা-ব্রুনাই ফ্লাইট অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি আশা করেন ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকরা বাংলাদেশের যেকোনো বিষয়ে মন্তব্যের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দেবেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় শান্তির পক্ষে। বাংলাদেশ কখনই যুদ্ধের পক্ষে নয়। এ কারণে ইউক্রেন সংকটে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই বাংলাদেশের অবস্থান। এ বিষয়ে জাতিসংঘে উত্থাপিত যেকোনো প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিজ্ঞাপন