ফেনীর পরশুরামে তথ্য গোপন করে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে প্রতারনার মধ্য দিয়ে প্রথম স্ত্রী টুনি বেগম ও তার মেয়ে আনোয়ারা বেগম কে বাদ দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ছত্তরের ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে মুক্তিযোদ্ধার দ্বিতীয় সংসারের মেয়েদের বিরুদ্ধে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়সহ ফেনী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ছত্তরের প্রথম সংসারের মেয়ে আনোয়ারা বেগম। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় ও জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রথম সংসারের মেয়ে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার পিতা শহীদ আব্দুল ছত্তার সরকারী গেজেটভুক্ত একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরকার প্রণীত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তিনি অর্ন্তভূক্ত হন। যা পরবর্তীতে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আমার পিতার গেজেট নম্বর “৫৪৬”। লিখিত আবেদনে তিনি আরও বলেন, ‘আমার পিতা শহীদ ছত্তার এর দুই সংসার ছিল। প্রথম স্ত্রী (আমার মাতা) টুনি বেগমের সংসারে আমিই একমাত্র মেয়ে। আমার জন্মের ১০ মাস পর আমার মা টুনি বেগম মারা গেলে পরবর্তীতে ছালেহা খাতুন কে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন আমার পিতা। ওই সংসারে মায়েনা ,জরিফা,সেমনা,মাসুদা ও রাহেনা আক্তার নামে পাঁচ মেয়ে সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে রাহেনা আক্তার মারা গেছেন। দুই পরিবারের ছয় মেয়ে সন্তানের মধ্যে আমি সবার বড়। গত ২০০৩ সাল থেকে আমার পিতার নামে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু হলে সৎ বোনেরা সবাই মিলে বিষয়টি গোপন রেখে ৩ নং চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমার নাম বাদ দিয়ে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ওয়ারিশ সনদ নিয়ে দাখিল করে ।তারা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, রেশন ভাতাসহ উৎসব ভাতা উত্তোলন করে আসছে। এছাড়াও সরকার ঘোষিত সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। আমি খবর পেয়ে এ ব্যাপারে আমার সৎ বোনদের কাছে জানতে চাইলে তারা ভাতা সম্পর্কে কোন সঠিক তথ্য দিতে অপরগতা প্রকাশ করে। এমতাবস্থায় ভাতা নিয়ে সৎ বোনদের প্রতারণার প্রতিকার ও আমার পিতার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আমার পিতার সকল ওয়ারিশ দের মধ্যে সমহারে বণ্টনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়সহ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনার জন্য আবেদন করি। আনোয়ারা বেগম ফেনীর সময় কে জানান, ‘সৎ বোনেরা তার পিতা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ছত্তরের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে প্রতারণা করেছে । ভুয়া কাগজপত্র সহ তার নাম বাদ দিয়ে ওয়ারিশ সনদ দেখিয়ে তারা সবাই মিলে আমাকে বঞ্চিত করে একাই মুক্তিযোদ্ধা পিতার ভাতার অংশ ভোগ করছে। আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার পিতার ভাতার টাকা দাবি করায় সৎ বোনেরা আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, আমাকে ঠকিয়ে রাষ্ট্রের টাকা আত্মসাৎ করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’ সম্প্রতি ভাতার ব্যাপারে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ছত্তরের দ্বিতীয় সংসারের মেয়েদের কাছে জানতে চাইলে তারা এব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি। চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অসম্পূর্ণ ওয়ারিশ সনদ ইস্যুর ব্যাপারে ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ মোস্তফা’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আগে ও তারা ওয়ারিশ সনদ নিয়েছেন,তাই পূর্বের রের্কড দেখে আমি ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করেছি। পরবর্তী তে জেনেছি যে তারা তাদের এক সৎ বোনের কথা তথ্য গোপন রেখে ওই সনদ ই্স্যু করে নিয়েছেন।তিনি এই জালিয়াতি প্রতিকারের জন্য অবিলম্বে তাদের কে হাজির হওয়ার নোটিশ করবেন বলেও জানান। পরশুরাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শাহরিয়ার বলেন, পরশুরাম উপজেলার ৩ নং চিথলিয়া ইউনিয়নের মালিপাথর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল ছত্তর একজন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।তিনি আরও জানান, সেক্টর কমান্ডার ২ মেজর কে এম খালেদ মোশারফ এর অধিনে ছিলেন। । তিনি ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে তার নিজ এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। ২০০৩ সালে সরকার প্রণীত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ছত্তর। যা পরবর্তীতে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। আবদুস ছত্তারের দৌহিত্র আবদুল মোমিন মজুমদার জানান আমার মা আনোয়ারা বেগম বহুদিন অসুস্থ। টাকা অভাবে চিকিৎসা করতে পারছি না। কিন্তু আমার নানা শহীদ আবদুস ছত্তারের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এক টাকা পায় না।আমার মায়ের সকল সত্য গোপন করে শুধু ভাতা নয় ঢাকা শহরের শহীদদের বরাদ্দ কৃত জায়গাটা সহ জন্ম স্থান মালি পাথর সব জায়গ জমিনসহ বসত বাড়ি পর্যন্ত তাদের নিজ নামে করে পেলছে।এছাড়াও সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমরা ও আমার মা।আমি চাই সুষ্টু তদন্তের মধ্যেমে আমার মায়ের সব সুযোগ সুবিধা ফিরে পেতে চাই। তিনি আরও বলেন তারা সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও কিন্তু শহীদ আবদুস ছত্তারের কবরের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ করেনি।এটা খুবই দুঃখ জনক! শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ছত্তরের প্রথম সংসারের মেয়ে আনোয়ারা বেগমের নাম বাদ দিয়ে ভুয়া এবং অসম্পুর্ন ওয়ারিশ সনদ জমা দিয়ে দ্বিতীয় সংসারের মেয়েরা ভাতা ভোগ করছে ,এই প্রসঙ্গে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শাহরিয়ার বলেন, বিষয়টি খুবই গুরুতর অপরাধ। তবে এই বিষয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোন চিঠি আসেনি।আসলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও সৈয়দা শমসাদ বেগম এর জানতে চাইলে তিনি জানান তথ্য গোপন করে শহীদ পরিবার কে কোন ভাবে হয়রানি করা যাবে না। সুষ্ঠু তদন্তের মধ্যেমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।এবং যার যে পাপ্য তা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।