ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে নির্মাণ সামগ্রী। একতলা ছাদ বিশিষ্ট এ ভবনেই ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ভবনে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে ভবনটি। কিন্তু এসব মেরামতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো উদ্যোগ নেই।
কর্মকতারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের সেই কাঙ্খিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আবাসিক ভবনে গরু ছাগল রাখার মত কোন পরিবেশ নেই। আবাসিক ভবন এখন টয়লেটের জায়গায় পরিনত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
(২৭ নভেম্বর) রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনের এমন বেহাল দশা। ইউনিয়নের প্রাণ কেন্দ্র চাঁদগাজী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জরুরী ভিত্তিতে নতুন করে নির্মাণ করা দরকার বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ছাদের নির্মাণ সামগ্রী ধসে পরেছে কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ছে। বসার মত তেমন কোন জায়গা নেই।

মহামায়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।
স্থানীয়রা জানান, ৪৩ বছরের পুরনো ভবনটিতে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। পানীয়জলের ব্যবস্থা নেই। দরজা-জানালা ভাঙ্গা। বৃষ্টি আসার সঙ্গে সঙ্গে ছাদ থেকে পানি পড়ে সবকিছু ভিজে যায়। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) পুরোপুরি অচল। অন্য কক্ষগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী। মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, দুজন পরিবার কল্যাণ সহকারী, একজন আয়াসহ মোট পাঁচটি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। বর্তমানে সেখানে রোগী দেখেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আবদুর রহিম।
হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, জনগনের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে ১৯৭৯ সালে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ৪৩ বছরের এ ভবনটি মেরামতের জন্য বেশ কয়েকবার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এর আগে। ভবনে পানির ব্যবস্থা নেই, টয়লেটসহ সবকক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী।
এতে করে ইউনিয়নের দরিদ্র, অতি দরিদ্রসহ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সাধারণ চিকিৎসা, গর্ভবতী ও শিশু সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সাইফুল জানান, টয়লেট ও আবাসিক ভবন একদম ভেঙ্গে পড়ে এখন সেগুলো বন্ধ হয়ে আছে। টয়লেট বন্ধ থাকায় ঐ ভবনের মাঝে টয়লেট করছে। আবাসিক ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে ঐটা এখন জনসাধারণের টয়লেটের জায়গা। রুগিরা চিকিৎসা নিবে কি করে।
এখানে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা আয়েশা খানম বলেন, এমন বৈরী পরিবেশে কাজ করতে আমাদেরও ভয় হয়। কখন আবার মাথার ওপর পলেস্তারা খসে পড়ে। জরুরি নথিপত্র ও ওষুধ সংরক্ষণের জন্য কোনো আলমারি নেই। জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে স্বাভাবিক প্রসবসেবা বন্ধ রয়েছে।’ তবে প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা চালু আছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে মহামায়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিনু বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির বাইরের পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ভিতরে ঢুকলে মনে হয় যেন ভূতের বাড়ি। চারদিকে শুধু নেই আর নেই। এ বেহালদশার জন্য দায়ী কে? সরকারের বারবার দেওয়া বরাদ্দ কোথায় গেল?
এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন জানান, মহামায়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত। তাই সেবাদানে সমস্যা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।