বগুড়া শেরপুরের একটি গ্রামে সপ্তাহজুড়ে ঘটছে রহস্যজনক সিরিজ অগ্নিকান্ড । সিরিজ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছে ঐ গ্রামের মানুষ।
ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সিমাবাড়ি ইউনিয়নের শিমলা গ্রামে। এটি বগুড়া জেলা তথা শেরপুর উপজেলার শেষ সিমান্তবর্তী এবং অত্যন্ত প্রত্যান্তঞ্চল।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি ) দুপুরে উপজেলার সিমাবাড়ি ইউনিয়নের শিমলা গ্রামে গিয়ে সরেজমিনে জানা যায়, গত শনিবার (৭ জানুয়ারি ) থেকে শুরু হয়েছে এই সিরিজ অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
দূষ্কৃতিকারীরা সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাতের মধ্যে যেকোনো সময়ে অগ্নিসংযোগ ঘটাচ্ছে।
প্রথম রতন মোহন্তের খড়ের পালায় আগুন লাগিয়ে শুরু করেছে সিরিজ অগ্নিসংযোগ। এরপর পর্যায়ক্রমে নুর ইসলাম, মোবারক হোসেন, পলাশ ঠাকুর, মহাদেব, দিলিপ রায়, মাহফুজার রহমানসহ এযাবৎ অন্তত ১২টি খড়ের পালা আগুনে পুড়িয়েছে, এছাড়াও দূর্বৃত্তরা সাবিত্রী সুত্রধরের রান্না ঘর, লিটন সরকারের খড়ের পালাসহ বৈদ্যুতিক মিটার এবং স্কুলের বৈদ্যুতিক মিটারে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে।
গ্রামবাসিরা বলেন, শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে মন্দিরে রাখা লক্ষি প্রতিমা।
গ্রামবাসিরা আরও জানান, এ ঘটনায় গত রোববার থেকে আমরা সকল গ্রামবাসি চরম আতঙ্কসহ নিদ্রাহীন রাত্রি যাপন করছি। কারণ ৫ জনের একটি করে দল তৈরী করে ৪/৫ টি বিভক্ত হয়ে গ্রাম পাহাড়া দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু তাতেও কিছু হচ্ছেনা, প্রতি রাতেই ঘটছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এহেন পরিস্থিতি থেকে আমরা পরিত্রান চাই।
এক প্রশ্নের জবাবে তারা দৈনিক প্রথম সময়কে জানান, ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসন অবগত, শুধুমাত্র সন্দেহভাজনদের নামে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, সিমাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান বাবু গৌড় দাস রায় চৌধুরী বলেন, আমার এলাকা শান্তি প্রিয় এলাকা, হঠাৎ করেই কয়েকদিন যাবত অনাকাঙ্ক্ষিত এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সিরিজ ভাবেই ঘটছে। আমি গ্রামবাসিদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রামে পাহাড়ার ব্যবস্থা করেছি। খুব তাড়াতাড়ি প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সৃষ্ট দূর্ঘটনার সমাধান হবে বলে আমি আশাবাদী। প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি বলেন, এটা সাম্প্রদায়িকতার কোনো বিষয় নয়। নাশকতাকারীরা অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যহত রাখতে প্রতিমা ভাঙচুর সবার দৃষ্টি প্রতিমা দিকে নেওয়ার অপকৌশল মাত্র।
ঐ ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ- পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জানি, প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে।
জানতে চাইলে শেরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের একটি অভিযোগ হয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি।