তিন বছর যাবত ফুলজোড় নদীতে খাঁচা পদ্ধতিতে ৩০টি খাঁচায় মনোসেক্স মাছ করে আসছি। প্রতি খাঁচায় ১২০০ থেকে ১৫০০ মনোসেক্স মাছের পোনা থাকে। এসআর কেমিক্যাল এবং মজুমদার ফুড প্রোডাক্টসের রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে নিস্কাশনের ফলে চাষের মরে যাওয়ায় দুই বছরে আমার ৩৮ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। মানববন্ধনে উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন মৎস্য ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম বাবু।
বগুড়ার শেরপুরে বাঙ্গালী ও ফুলজোড় নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য নিস্কাষণের প্রতিবাদে মানব বন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (২৭ মার্চ) বেলা ১২ টায় স্থানীয় ফুলজোড় নদী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে সিমাবাড়ি ইউনিয়নের বেটখৈর সকাল বাজার এলাকায় ফুলজোড় নদীর তীরেএই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সীমাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মৎসচাষী তৌহিদুল ইসলাম বাবু, আবুল কালাম আজাদ, জয়নাল আবেদীন, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আহসান হাবীব, প্রভাষক হাসান উল বান্না সেতু, সতীশ হাওয়ালদার, গরু খামারি হাসিনুর ইসলাম প্রমূখ।
মানববন্ধন চলা কালে সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে শেরপুরে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লি: ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রায় ৫ বছর আগে মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরাসরি কারখানার বর্জ্য বাঙ্গালী নদীতে ফেলা শুরু করে। এর পরবর্তীতে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লি: হাইড্রক্লোরিক এসিড মিশ্রিত বিষাক্ত বর্জ্য বাঙ্গালী ও ফুলজোর নদীতে সরাসরি ফেলে। এর ফলে দুই নদীর উজান ও ভাটিতে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। নদী এখন মাছ শুন্য। শুধু তাই নয়, শামুক ঝিনুক ব্যাঙসহ নদীতে যত রকমের জলজ প্রাণী থাকে সব মরে শেষ। এর ফলে নদীর তীরবর্তী ৫শ মৎস্যজিবী পরিবার বেকার হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি আবাদী জমিতে ব্যবহার করার ফলে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সম্প্রতি খাঁচা পদ্ধতিতে মৎস্য চাষীদের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মাছ মারা গেছে বলে তারা জানান। এ সবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু কোন প্রতিকার না হওয়ায় তারা আন্দোলন করছেন বলে তারা জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন অব্যহত রাখার ঘোষণা দেন।