ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে রাপন পল্লী প্রজেক্টের নির্মান শ্রমিক ও এক নারীকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।উক্ত ঘটনায় ঐ প্রজেক্টের ঠিকাদার মোঃ মঞ্জিল (৫২) বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায়(মামলা নং- ৩১/তাং-১৯-০৩-২৩ খ্রি.) একটি মামলা দায়ের করেন। অপহরনের সাথে জড়িতরা হল শুভপুর ইউনিয়নের দক্ষিন মন্দিয়া গ্রামের হেছাব ভূঁইয়া বাড়ীর মোঃ মোস্তফার ছেলে সালাহ উদ্দীন(২০),ছুনি কাজি বাড়ীর রবিউল হকের ছেলে মোঃ মিলন(২০),ভেন্ডার বাড়ীর জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোঃ মারুপ(১৯),ইব্রাহীম বাড়ীর জাফর আহাম্মদের ছেলে মোঃ সাব্বির হোসেন (১৭),ফজলুল হক ডাক্তার বাড়ীর তহছিল উদ্দীনের ছেলে দিদারুল ইসলাম(৩৫), হেছাব উদ্দীন ভূ্ইয়া বাড়ীর সাইফুল ইসলামের ছেলে নিলয়(১৭),দক্ষিন বল্লভপুর কাজী বাড়ীর মিনিয়ার ছেলে মোঃ আরাফাত (৩০),জয়পুর গ্রামের দৌলতপুর ভূঁইয়া বাড়ীর বাচ্চু সওদাগরের ছেলে আরঙ্গজেব ও দক্ষিন মন্দিয়া গ্রামের রাবেয়ার বাপের বাড়ীর মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে নুর ইসলাম (নুরাইয়া) (৩৫)।মামলার বিবরন সূত্রে ও বাদী জানায় গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৬ টার দিকে রাপন পল্লী প্রজেক্টের শ্রমিক মোজাম্মেল হোসেন তার নিকটাত্নীয় ফাতেমা আক্তার (১৮)সহ প্রজেক্টে আসার সময় দক্ষিণ মন্দিয়া রাপন পল্লী প্রজেক্টের সামনে কালভার্টের উপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল।এসময় বিবাদীরাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জন বিবাদী আমার শ্রমিক মোজাম্মেল হোসেন ও তার আত্নীয় ফাতেমা আক্তার এর পথ রোধ করে অন্যায়ভাবে আটক করে মারধর করতে করতে জনমানবহীন একাধীক স্থানে অপহরন করে নিয়ে যায়।এসময় তারা আমার কর্মরত শ্রমিকরা ও আমার ছেলে মোঃ এয়াছিনকে ও অজ্ঞাত স্থানে অপহরন করে নিয়ে যায়। আমি গোপন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং আমার অঙ্গীয় শ্রমিক মোঃ রাসেল ডালি ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধার করে এবং জড়িত বিবাদীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালায়। বিবাদীরা ভিকটিমদের একেক সময় একেক স্থানে নিয়ে যায়।পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পূর্বে আমি বিবাদীদের কাছ থেকে ভিকটিমদের নেয়ার জন্য আসলে বিবাদী সালা উদ্দীন, মিলন,দিদারুল, আরাফাত, আওরঙ্গজেবসহ সকল বিবাদীরা ভিকটিমদের থেকে নেয়া সব টাকা নেয়ার পরও আমার নিকট সরাসরি দুই লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে।আমি তখন অনুনয় বিনয় করে অনুরোধ করলে বিবাদীরা আমাকে দৌড়াইয়া দিয়ে ভিকটিমদের অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়।বিবাদীগন তাদের দাবীকৃত মুক্তিপন না পেয়ে আমার ছেলে মোঃ এয়াছিনসহ অপহরনকৃত ভিকটিমদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে তাদের হাতে পায়ে বুকে পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি ভাবে রক্তাক্ত ফুলা জখম করে। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বধুরগো বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছলে বিবাদীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভিকটিমদের ফেলে পালিয়ে যায়।পুলিশ ভিকটিমদের ২৯ মার্চ রাতভর অভিযান চালিয়ে রাত অনুমান দুইটার সময় উদ্ধার করে।এসময় বিবাদীরা মোজাম্মেল হোসেন এর ১টি মোবাইল সেট ও মানিব্যাগে থাকা নগদ ১৫ হাজার ৫শত টাকা,ফাতেমা বেগমের ১টি মোবাইল সেট এবং তার ব্যাগে থাকা ৫ হাজার টাকা এবং এয়াছিনের ১ টি মোবাইল সেট এবং মানিব্যাগে থাকা শ্রমিকদের মজুরী প্রদানের জন্য রক্ষিত ৪৬ হাজার ৫ শত টাকা নিয়ে যায়।ভিকটিমদের উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
মামলার তদন্তকর্মকর্তা এসআই নাজমুল হোসেন জানান উক্ত ঘটনায় ৯ নং আসামী নুর ইসলাম নুরাইয়াকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।বাকী আসামীদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।