ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর বল্লভপুর গ্রামে স্বামী এ.এইচএম জামশেদ আলম(৪২),শ্বশুর কাজী এনায়েত উল্যাহ(৬০),ভাশুর মোরশেদ (৪৫) ও শ্বাশুরী সুফিয়া আফরোজ(৫২)এর বিরুদ্ধে নির্যাতন, যৌতুক ও গর্ভপাতের অভিযোগ এনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছে ২য় স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার। মামলার বিবরনে জানা যায় উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর বল্লভপুর গ্রামের আহছান উল্যাহ মৌলভী বাড়ীর এএইচ এম জামশেদ এর প্রথম স্ত্রী তিনটি কণ্যা সন্তান রেখে ২০২২ সালের ৬ অক্টোবর মৃত্যুবরন করে। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি থানার জিয়া নগর গ্রামের মৃত মোঃ হানিফ এর কন্যা ইয়াছমিন আক্তারের সাথে এএইচ এম জামশেদ আলম মুসলিম শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।এবং তাদের সংসার ভালোভাবে চলে আসছিল।তবে বিয়ের সময় বিবাদীরা বাদিকে শর্ত প্রদান করে যে তাদের অনুমতি ছাড়া সন্তান নিতে পারবেনা।আর বাদি যদি গর্ভধারন করে তাহলে গর্ভপাত ঘটাবে এবং তালাক প্রদান করবে।বাদি বিবাদীদের কথামত পদ্ধতি গ্রহনের মাধ্যমে গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকলেও হঠাৎ গর্ভবতী হয়ে পরলে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগাজ করে এবং মারধর করে বিবাদীরা।গত ১০ জুলাই ২৩ খ্রি.রাত অনুমান ০৯ টার দিকে ১-৪ নং বিবাদী গর্ভপাতের ঔষধ এবং ইনঞ্জেকশন দিয়ে গর্ভপাত করতে বাধ্য করায়। গর্ভপাতের ঔষধ সেবন ও ইনজেকশন নেয়ার কারনে ২ ঘন্টা পর থেকেই বাদীর মারাত্নক ব্লিডিং শুরু হয় এবং তা ৩/৪ দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। উক্ত ঘটনায় বেআইনী কর্মকান্ডের দ্বারা দন্ডবিধির ৩২৩/৩১২/৫০৬/(!!)/৩৪ ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় বাদি বিবাদীদের বিচার দাবি করে আদালতে জিআর ৩০২/২৩ মামলা দায়ের করে। এছারা গত ১৫ জুলাই ঢাকায় বাড়ী কিনার কথা বলে ১-৪ নং বিবাদী বাদির কাছে ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে।এতে বাদি অপারগতা ও অক্ষমতা প্রকাশ করলে বিবাদীরা জোর করে বাদিকে বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়।এবং তার বিরদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেয়।বাদি ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের৩ ধারায় জিআর ৩০১/২৩ মামলা দায়ের করে।উক্ত বিষয়ে বাবাদী এএইচএম জামশেদ আলম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে।আদালতে মামলার পর বিবাদীরা মামলা তুলে নিতে বাদীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।এনিয়ে বাদি বর্তমানে নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে।