দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন আলহাজ্ব আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহাতাব হোসেন প্রামাণিক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হওয়ায় ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝঁড় বইছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এই অধ্যক্ষ শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এর পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পুরস্কার গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উক্ত কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন শামিম লিখেছেন, এই শিক্ষকের উপযুক্ত বিচার দাবি জানাচ্ছি। কলেজের শিক্ষক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী সহ কর্মচারীদের সাথেও গরুর মত ব্যবহার করে এই অধ্যক্ষ।
কলেজের গভনিং বড়ির সদস্য সাইদুল হক জানান, মাহাতাব হোসেন প্রামাণিকের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান বিধি মোতাবেকই হয় নাই। বিধি বহির্ভূতভাবে অদৃশ্য একজনকে গণিত শিক্ষক নিয়োগ দেখিয়ে প্রায় ৩ বছরের বেতন ভ্রাতা আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ফেনী জেলা পরিষদের অর্থায়নে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে কলেজের পূর্ব পাশের ৪ শতক স্থাবর সম্পত্তি পাশের জমির মালিকের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ছাড় দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অপচেষ্টা করেছিলেন অধ্যক্ষ মহাতাব। পরে অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেন ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌমিতা দাস। এ ছাড়াও সভাপতির অগোচরে দুর্নীতির মাধ্যমে কলেজের মোটা অংকের টাকা সরিয়ে নিতে আলাদা ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের মতো অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের এইচএসসি শিক্ষার্থীর ফরম পূরণে ৩৫০০ টাকা অতিরিক্ত ফি নেওয়াসহ নানা অসদাচরণের বিষয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে আব্দুল্লাহ আল নোমান নামে এক ছাত্র। এর আগে ২০১৮ সালে কলেজের সভাপতি থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্য শিরীন আখতার এই অধ্যক্ষকে গুরুতর আর্থিক অনিয়মসহ কয়েকটি অভিযোগে বরখাস্ত করেছিলেন। পরে কৌশলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ নিয়ে নিজের অবস্থান স্থায়ী করেন তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) ফাহমিদা হক জানান, চলতি বছরের মে/জুনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের দিকনির্দেশনায় বিগত ৩০ আগস্ট ঔ কলেজে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসক ও বোর্ডকে দেয়া হবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার জানান, অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাহাতাকে জেলার সেরা শিক্ষকের পুরস্কার প্রদান করাটা কতটুকু যুক্তিসংগত? এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফি উল্যাহ জানান, অধ্যক্ষ মহাতাবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে আমাদের নজরে ছিল না। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা মিটিং এর মাধ্যমে যে কোন সিদ্ধান্ত নিব।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ মহাতাব হোসেন প্রামাণিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নাই।