আগামী বছরের শুরুতেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ শুরু হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেছেন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডাটাবেজের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। কর্মীরা ন্যূনতম খরচে সেখানে যেতে পারবেন। মালয়েশিয়া যাওয়ার ব্যাপারে কারো সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শও দেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব বলেন। তিনি মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক সই শেষে দেশে ফেরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। এ সময় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের খরচ লাখ টাকার নিচে নামতে পারে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী কর্মীর আসা-যাওয়ার টিকিটসহ মালয়েশিয়া প্রান্তের খরচ নিয়োগকর্তার। এখানে কর্মীর ব্যয় বলতে তার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসার খরচ, পাসপোর্ট তৈরি, বিএমইটি ফি, কল্যাণ বোর্ডের সদস্য ফি, মেডিক্যাল ফি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ’। মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া প্রান্তের খরচের মধ্যে আছে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় গমনের প্লেন ভাড়া, আবাসন ও কর্মে নিয়োগ। কর্মীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ নিয়োগ কর্তা বহন করবেন। নিয়োগকর্তা নিজ খরচে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্ট নিযুক্ত করতে পারবেন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর বাংলাদেশি কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত খরচ, করোনা পরীক্ষার খরচ, কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত খরচসহ সব ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি বহন করবে। নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বিমা, চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবেন। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আগে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় এক লাখ ৬০-৬৫ যাই থাকুক না কেন, এখন তা থেকে অনেক কমে আসবে। কারণ, সেই ব্যয়ের বেশিরভাগ খরচই নিয়োগকর্তা বহন করবেন। আগে বিমান ভাড়া আমাদের কর্মীরা দিতেন, যার কারণে ওই ব্যয় ছিল। এবার আশা করি অনেক কমে যাবে। আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সির চার্জ যাই হোক, সেটা আমাদের কর্মীদের ওপর পড়বে। মালয়েশিয়ার অংশেরটা নিয়োগকর্তা দেবেন। সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা নেই। তবে আইডিয়া করা যায়, দুই তিন মাসের বেতনের বেশি হওয়া উচিত না।’ সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, ‘অভিবাসন আইন অনুযায়ী আমরা অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করতে পারি। সেটা করে একটা ধারণা দিতে পারি খরচ কেমন হতে পারে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোকে সর্বোচ্চ কত টাকা নিতে পারবে, সেটা নির্ধারণ করব।’ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সম্পন্ন হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে মন্ত্রী ইমরান আহমদ ও মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান সই করেন। এই চুক্তির ফলে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারো বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার ঘোষণা দেয় মালয়েশিয়া। তার আগে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ তাদের সব সেক্টরে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার অনুমোদন দেয়। বিশেষ করে গৃহকর্মী, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন এবং নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেবে মালয়েশিয়া।