ফেনী ফুলগাজীতে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রী কোহিনুর আক্তার আহত।ফেনী ফুলগাজী উপজেলার ৫ নং আমজাদ হাট ইউনিয়নে’র উত্তর ধর্মপুর গ্রামের কাদের মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন আবু তৈয়বের বাড়িতে গত
(৩০জুলাই) বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২ ঘটিকা’র সময় স্বামী’র নিজ বাড়িতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী কোহিনুর আক্তার (৩২) কে কুপিয়ে মাথায় জখম করে স্বামী আবু তৈয়ব(৫০)। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কোহিনুর ও তার সন্তানদের কে সহ তার স্বামী ঘরে বন্ধী করে রাখে। তার বড় ছেলে নূর মোহাম্মদ তার নানার বাড়িতে ও তার খালাদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গেলে দেখতে পায় তাদের বোনকে মেরে মুমূর্ষ অবস্থায় বন্ধী করে রাখে , পরে তারা কোহিনুর কে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে তার স্বামী কহিনুরের বোন ও ভাইয়ের বৌদের সাথে লাগামহীন গাল মন্দ ও হামক দমক দিতে থাকে। এমতাবস্থায় তারা তৈয়বের ভাইদের কে বিষয়টি জানান, পরে তৈয়বের ভাইরা বিষয়টি দামাছাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ততক্ষণে এলাকায় বিষয়টি চড়িয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন ও কহিনুরের পরিবারের লোকজন সংবাদ কর্মীদের কাছে বিষয়টি জানালে তারা সেখানে গিয়ে কহিনুর কে মারার পর আটক করে রাখার বিষয়টার সত্যতা খুঁজে পায়।
এই বিষয় নিয়ে কোহিনুরের পরিবারের কাছে জানতে চাইলে কহিনুরের বড় ভাবি ও বোনেরা বলে যে কহিনুর কয়েক মাস আগে ও তার ভাইদের কে জানাইছে যে তার স্বামী আবু তৈয়ব তাকে চাপ প্রয়োগ করে যে,সে যেন তার ভাইদের কাছ থেকে দশ লাখ টাকা নিয়ে আসে, তার স্বামীর টাকার প্রয়োজন, সে তার স্বামীর কথা মত ভাইদের কাছ থেকে টাকা চাইতে অনাগ্রহ দেখালে কোহিনুরের স্বামী কারনে অকারনে কহিনুর কে গাল মন্দ ও শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে আসিতেছে । কোহিনুরের পরিবারের লোক জন আরো বলে গত দুই বছর আগে ও কোহিনুরের নামে জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে তার স্বামী আবু তৈয়ব কোহিনুরের মাধ্যমে সাত লাখ টাকা কোহিনুরের ভাইদের থেকে নেওয়ায়, তখনো কহিনুর বুঝতে পারেনি তার স্বামী তার সাথে এ রকম করবে, তখন ও বিষয় গুলা নিয়ে বাড়াবাড়ি হলে তার স্বামী তাকে মারধর করে। তখন কোহিনুরের ভাই ও বোনেরা কোহিনুরের ছেলে মেয়ের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে বিষয় গুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে বিষয়টি হালকা ভাবে নেয়। কিন্তু পরে আস্তে আস্তে বুঝতে পারে তৈয়ব লোভী প্রকৃতি লোক, তৈয়ব কারনে অকারনে ছোট খাটো বিষয় নিয়ে কোহিনুর ও তার ছেলে সন্তানদের সব সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো।
বিষয়টি তৈয়বের পরিবারের লোকজন সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের অনেক আগে থেকে কোহিনুরের ভাই ও বোনেরা জানাইতো। অনেকবার গন্যমান্য ব্যক্তিরা আবু তৈয়ব কে সামাজিক ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করে ও কোন সুফল পাওয়া যায়নি, কয় দিন পর পর সে কহিনুর কে কথায় কথায় গাল মন্দ বেধরক মারধর করে, এবং কহিনুরের বাবার বাড়ির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করতে কহিনুরকে জোর পুর্বক বাধ্য করা হইতো।
এই বিষয়ে আবু তৈয়বের স্থানীয় সমাজের লোকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে এর আগেও আমরা একই পরিবারের অনেক শালীশ করে দিয়েছি কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পরে তাদের আবার পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
এ ব্যাপারে কোহিনুর আক্তার (৩২)এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার স্বামী আবু তৈয়ব (৫০) আমার প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। বর্তমানে আমি শারীরিকভাবে ও মানসিক ভাবে খুবই অসুস্থ, আমাকে সব সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসতেছে। অনেক আগে থেকে আমি ও আমার সন্তানেরা তার কাছে জিম্মি হয়ে আছি। আমার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। গত দুই বছর আগে ও আমার নামে জমি ক্রয় করার কথা বলে কৌশলে আমার বাবার বাড়ি থেকে সাত লাখ টাকা আমার মাধ্যমে নিয়ে আসে, পরে আমার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমার ভাইরা আবু তৈয়ব কে ৭ লক্ষ টাকা নগদ দিয়ে থাকে , কিন্তু দুঃখের বিষয় সে জমি ক্রয়ের কথা বলে আমার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা আদায় করে, আমার সাথে প্রতারনা করে এখনো পর্যন্ত আমার নামে কোন জমিন ক্রয় করে নাই, বরং দুই বছর পার না হতে আবার তার বাড়ি রাস্তা বাধার কথা বলে আমার ভাইদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। আমি আমার ভাইদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসতে রাজি না হলে আমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। আমি কোহিনুর আক্তার আমার ছেলে মেয়েদের কথা চিন্তা করে এত নির্যাতনের মধ্য দিয়ে ও আমি স্বামীর সংসার করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই কয়েক মাস আগে আমার স্বামীর বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করবে ও বিদেশ যাবে বলে আমার পরিবারের কাছ থেকে দশ লাখ টাকা এনে দিতে আমার উপর আবার চাপ সৃষ্টি করতে থাকে আমি টাকা আনতে পারব না বললে আমার উপর ছোট খাটো বিষয় নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায় । ৩০ তারিখ বৃহস্পতিবার আমাকে মারধর করার সময় আমার বড় ছেলে নুরমোহাম্মদ (১৬) আমাকে নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে গেলে একপর্যায়ে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জবাই করার চেষ্টা চালায়। তখন আমি আমার ছেলে নুর মোহাম্মদ কে বাঁচাতে গেলে আমার মাথার উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি,পরে আমার পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় , আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার কামনা করি।
এই ব্যাপারে তার বড় ছেলে নূর মোহাম্মদ দৈনিক প্রথম সময়কে জানান আমার বাবা আমাকে ও আমার মা এবং বোন কে সব সময় সামান্য কথা নিয়ে গালমন্ধ ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে , গত ৩০ জুলাই আমি বাহিরে থেকে ঘরে গেলে দেখি আমার বাবা আমার, মাকে বেধরক মারধর করতেছে। আমি তাকে বাধা দিলে আমার বাবা আমার গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে , একপর্যায়ে বলতে থাকে তোকে ও জবাই করে দিবো। তখন আমার মা এসে আমার বাবাকে বাঁদা দিলে আমার বাবা আমার মায়ের মাথায় দারালো দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে করে আমার মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এই সময় কহিনুরের পরিবার বলেন আমরা নিরুপায় হয়ে মিডিয়ার দারাস্থ হই, আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার ফেনী জেলার বিশেষ প্রতিনিধি ও অনলাইন দৈনিক প্রথম সময়ের সম্পাদক ও প্রকাশক কাউসার হামিদ শিকদার পিনু ও সাপ্তাহিক ফেনী ডাক পত্রিকার ফুলগাজী প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ঝন্টু ও
এলাকার লোকজন সহ আমরা কোহিনুর আক্তারকে গৃহবন্দী থেকে উদ্ধার করে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই। তার চিকিৎসা শেষে আমরা আইনের সহযোগিতা চাইবো।
এই বিষয়ে আবু তৈয়ব এর কাছে সাংবাদিকরা’ জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে এড়িয়ে যান।