৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করে আসছেন চা শ্রমিকেরা। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটি ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও সেটা মানেননি না সাধারণ শ্রমিকেরা। আন্দোলন সফল করতে সড়ক, মহাসড়ক, রেলপথ অবরোধ করতেও দেখা গেছে তাদের। তারা বলছেন, মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া কাজে ফিরবেন না।
গতকাল শুক্রবারও কাজে যোগ দেননি শ্রমিকেরা। বন্ধ ফ্যাক্টরিগুলোও। তবে এদিন কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল না তাদের। প্রতিটি বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে। সেখানে আলোচনার বিষয় ছিল আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাগানমালিকদের বৈঠকের বিষয়টি। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত দেবেন, তার দিকেই তাকিনে আছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বাগানমালিকদের সঙ্গে সভা হবে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সাধারণ চা শ্রমিকেরা সেটাই মেনে নেবেন। এ জন্য অবশ্যই সবকিছু বিবেচনা করে একটি মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ করবেন। আমাদের শেষ ভরসাস্থল থেকে এই আশাটুকু আমরা সবাই করছি।’
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নির্বাহী উপদেষ্টা রামভজন কৈরী বলেন, ‘আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই সবকিছু বিবেচনা করে একটি মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ করবেন। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সাধারণ চা শ্রমিকেরা সেটাই মেনে নেবেন।’
এদিকে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশিয় চা সংসদ সূত্রে জানা যায়, চলমান ধর্মঘটের কারণে দেশের চা বাগানগুলোর দৈনিক কয়েক কোটি টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। এ পর্যন্ত শতকোটি টাকার বেশি চা নষ্ট হয়ে গেছে। চলমান সংকট সমাধান করে নতুন করে কাজ শুরু করা হলেও অন্তত দেড় মাস চা উৎপাদন শূন্যের কোঠায় থাকবে। প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি চা পাতা উত্তোলন না হওয়ায় এসব পাতা কেটে ফেলতে হবে। সব মিলিয়ে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ চা শিল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের চেয়ারম্যান জি এম শিবলী বলেন, ‘পাতা তোলার এ ভরা মৌসুমে যদি কচি পাতা সংগ্রহ না করা যায়, তাহলে বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। যেসব পাতা উঠানো হয়েছে, শ্রমিকেরা কাজ না করায় সেসব পাতা নষ্ট হচ্ছে।’