বগুড়ার শেরপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি হয়েছে প্রায় ৩০০ মিটার কাঁচা সড়ক। কয়েকজন ব্যাক্তির মালিকানাধীন ফসলি জমির মধ্যদিয়ে এই কাঁচা সড়ক তৈরি করা হয়।
এসব জমির মালিকদের মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আম্বইল গ্রামের হেমন্ত চন্দ্র সরকার। নতুন তৈরি ওই রাস্তার মধ্যে তার রয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ জমি। এতেকরে নতুন তৈরি সড়কটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন হেমন্ত চন্দ্র সরকার।
যার ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা ।
এ ঘটনায় বিভক্ত গ্রামবাসীদের একপক্ষ সড়কের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নতুন সড়কের উপর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। অপরদিকে আরেক পক্ষের লোকজন অবস্থান নিয়েছে আম্বইল গ্রামের সড়কের উপর। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের গোঁড়তা গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুর ইউনিয়নের আম্বইল গ্রামের গোবিন্দ চন্দ্র সরকারের পৈতৃক জমির আইলের উপর দিয়ে রাতের আঁধারে মাটি ফেলে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করেছে গোড়তা গ্রামের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি। এতেকরে তার চাষের জমি এখন সড়কে পরিণত হয়েছে।
নবনির্মিত এই মাটির সড়কের উপর দিয়ে এখন চলাচল করছে ওই এলাকার ৪/৫টি গ্রামের অন্তত ৪০০টি পরিবার বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে আম্বইল গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত হেমন্ত চন্দ্র সরকারের দাবি, গত ৭ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছিল। এই সুযোগে ওই দিন দিবাগত রাতের আঁধারে আমাদের ১৭/ ১৮ বিঘা ফসলি জমির মাঝখান দিয়ে জবরদখল করে রাস্তা তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, তাদের পৈত্রিক জমি অবৈধভাবে দখল করতেই একটা মহল জমির মধ্য দিয়ে সড়ক তৈরি করেছে। যা অজারকতার সামিল।
আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি, এবং এবিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
ভবানীপুর ইউনিয়নের ওই এলাকার ইউপি সদস্য সন্তোষ কুমার সরকার বলেন, গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে অন্তত ৩০০ মিটার দুরত্ব সড়কটি তৈরি হয়েছে। । গত ৭ জানুয়ারি রাতে গ্রামবাসীরা এই রাস্তা তৈরি করে। এটি পূর্বে ছিল জমির আইল। জানামতে ১৭/১৮ জনের মালিকানাধীন জমির মধ্যে পড়েছে নবনির্মিত এই সড়ক। এ সকল পরিবারের মধ্যে গোবিন্দ চন্দ্র সরকারের জমি পড়েছে অন্তত সাড়ে ১০ শতাংশ। গ্রামবাসীর কয়েকশো নারী পুরুষ এই সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। এ ঘটনায় গ্রামের মধ্যে দুইটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন জানান, তাদের স্বেচ্ছাশ্রমে নবনির্মিত এই সড়কটি রক্ষার জন্য তারা এখন নিয়মিত পাহারা দিচ্ছেন।
এ নিয়ে ভবানীপুর ইউনিয়ন চেয়রম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, হেমন্ত মাষ্টারকে না জানিয়ে জমির মধ্য দিয়ে রাস্তা তৈরী করেছে গ্রামবাসী। গ্রামবাসীদের নিয়ে বসে বিকল্প রাস্তা তৈরী করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য দখল মুক্ত করে যার যায়গা তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রামবাসীকে বলা হয়েছে। সেটা গ্রামবাসী মানেননি। পরে সে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
এছাড়াও কয়েক গ্রামের মানুষজনের চলাচলের জন্য গ্রামটির পূর্ব পাশে পাকা সড়ক রয়েছে। এরপরেও নতুন সড়ক তৈরি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, হেমন্ত মাষ্টারে জমির মধ্যে দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরী করে নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ বিশেষ নজরদারি রেখেছে বলেও জানান তিনি।