ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ফল ব্যবসায়ীরা যেই তরমুজ ভোক্তার কাছে বিক্রি করেছেন ৮শ থেকে ৭৫০শ টাকায়, সেই তরমুজের দাম নামিয়ে আনেন ৩৫০ টাকায়।
সোমবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ছাগলনাইয়া পৌর শহরে
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দামের চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টে যায়। ঘটনাটি ঘঠেছে উপজেলার ছাগলনাইয়া জমাদ্দার বাজারে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে ছাগলনাইয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম কমলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এই অভিযানে সহযোগিতা করেছে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, রমজান মাসে কয়েকদিন যাবৎ তরমুজ ও ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করাায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান দেখে ব্যবসায়ীরা কেজিতে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা কমে বিক্রি করা শুরু করেন। দোকানে ৮শ থেকে ৭৫০শ টাকায় বিক্রি করা তরমুজ অভিযানের সময় দুপুরে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
অপরদিকে লেবুর হালিপ্রতি ২০ টাকা কমে বিক্রি করতে দেখা যায়। বড় লেবু ৯০ টাকার পরিবর্তে ৭০টাকা আর ছোট লেবুর প্রতি হালি ৫০ টাকা বিক্রি করেছেন তারা। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট দেখে অনেক বিক্রেতারা দোকান রেখে পালিয়ে যান।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ছাগলনাইয়া পৌর শহরের জমাদ্দার বাজারে তরমুজ বিক্রেতাসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানে পণ্যের ক্রয় রশিদ এবং মূল্য তালিকা দেখতে চাওয়া হয়। পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন ম্যাজিস্ট্রেট।
এ সময় বেশি দামে ফল বিক্রির দায়ে ৩ তরমুজ ব্যবসায়ী ও ১ জন মুদি দোকানদারকে মোট ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাজারে ক্রয় করতে আসা জসিম বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ৮শ থেকে ৭৫০শ টাকা দাম বেশি রাখা তরমুজ ৩৫০ টাকায় কিনতে পেরেছি। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন। তাহলে আমরা ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারতাম।
অপরদিকে আব্দুল আজিজ নামে এক ক্রেতা বলেন, ৩৫০ টাকা দামে তরমুজ বিক্রির খবর শুনে বাজারে এসে দেখি ম্যাজিস্ট্রেট যাওয়ার পর আবার বেশি দামে তরমুজ বিক্রি করছে বিক্রেতারা।
ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আমরা বাজার মনিটরিং করেছি।
ছাগলনাইয়া পৌর শহরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা নিয়ে ফল বিক্রি করে সে জন্য তাদের জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার জানান, রমজান মাসে কেউ অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও জরিমানাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে জেলার সকল উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা কাজ করছেন।