ফেনীর পরশুরামে মূহুরী নদীর বেরিবাদ ভেঙে উপজেলা ৩ নং চিথলিয়া ইউনিয়নের গ্রাম প্লাবিত হয়। গত ৩ দিনে টানা বর্ষণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আসা পানি বাংলাদেশের বিলোনিয়া হয়ে পরশুরামের উপর দিয়ে প্রবাহিত মুহুরী নদীর উপর দিয়ে এই পানি প্রবাহিত হয়।
গতকাল (০১ জুন) রবিবার রাত আনুমানিক ১১ টার সময় পরশুরাম উপজেলার ৩ নং চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর মধ্যমপাড়া গ্রামে মুহুরী নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। মোহরি নদীর পানির এতটাই চিত্ত স্রোত ছিল মহত্বের সাথে চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। আস্তে আস্তে পরশুরামের বিভিন্ন গ্রামে মানুষ পানি বন্দী হয়।
পরশুরাম বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ জানান আমরা ত্রাণ চাই না। আমরা চাই স্থায়ী সমাধান। যে সকল স্থানে বেরিবাঁধ ভেঙে গেছে এই ভাঙ্গা বেরিবাঁধ গুলো পূর্ণরায় সংস্থার করে আমাদেরকে পানি মুক্ত করুন। পরবর্তীতে আমরা যাতে সুন্দরভাবে পরিবার নিয়ে থাকতে পারি। এছাড়াও এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকেই বলেন মুহুরী নদীর বেরিবাদ পূর্ণরায় ঠিকভাবে সংস্কার করার দাবী জানিয়েছেন।
ফেনী ১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক পরশুরাম ফুলগাজী বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে দ্রুত ত্রাণ এবং সংস্কারের বিষয়ে কথা বলেন।
ফেনী ১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরশুরাম ও ফুলগাজীর বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জরুরী সাহায্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১০ লক্ষ টাকা, ২০০ টন চাল এবং ২০০০ প্যাকেট শুকনা
খাদ্য বরাদ্ধ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়। এই দুর্যোগ মুহূর্তে ত্রান সহযোগিতা করায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফেনী ১ আসনের এমপি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা হাবিব শাপলা। পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ আহমেদ মজুমদার। পরশুরাম পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেন। ৩ নং চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা হাবিব শাপলা বলেন আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রাথমিকভাবে ত্রাণ পাঠিয়েছি পরবর্তী সময়ে যেকোনো সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে করা হবে।
প্রতিবছর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আসা পানি বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতীয় উজানের অতিরিক্ত পানির মাত্রার কারণে বাংলাদেশের নদী গুলোর বেড়িবাঁধ ভেঙে শহর গ্রাম লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে এতে করে বাংলাদেশের মানুষের চলাফেরা রাস্তাঘাট বাসস্থান ইত্যাদি সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভারতীয় উজানের পানি এসে মূহুরী নদীর বিপদ সীমান অতিক্রম করে বাংলাদেশের জলসীমায় বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়।