বগুড়ার শেরপুরে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন নিয়ে জনতার উত্তাল ছিল পুরো শহর। ক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালিয়েছে শেরপুর ধুনট এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, শেরপুর থানা এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটির (নেসকো) বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রে।এছাড়াও ক্ষুব্ধ জনতা অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দিয়েছে শহরের ধুনট মোড় এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্স।
এই আক্রমণ চলাকালে তারা ওই এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধুনট মোড়ের একজন ফল ব্যবসায়ী জানান, তার দোকান থেকে পুরো সিসি টিভি সেট কার্টুন করে নিয়ে গেছে কয়েকজন আন্দোলনকারী।
রোববার (৪ঠা আগস্ট) বেলা ১১ টায় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লাঠিসোটা নিয়ে তারা বৈষম্য বিরোধী এই ছাত্র সমাজের অসহযোগ আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে। এতে করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমাজের এই অসহযোগ আন্দোলনে অন্তত ১০ হাজার ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছিল। এর আগে আন্দোলনকারীদের মিছিলটি শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হয় এবং শহরের দক্ষিনে শেরুয়া বটতলা হয়ে উত্তরের মহিপুর বাজার পর্যন্ত ছাত্র- জনতার উত্তাল এই মিছিল প্রদক্ষিণ শেষে শহরের ধুনট মোড় মহাসড়কের উপর একত্রিত হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আক্রমণ শুরু করে।
এদিকে অসহযোগ এই কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে শেরপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিনসহ তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। অপর দিকে বেলা ৩টা পযর্ন্ত এই সংবাদ সংগ্রহ পর্যন্ত থানা এলাকায় পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ ছাত্র- জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, অন্তত ৩০ জন আহত আন্দোলনকারীদের তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। জানাগেছে, সঙ্গে থাকা আন্দোলনকারীরা আহতদের নাম ঠিকানা বা বয়স এট্রি করতে দেয়নি।
দেখা গেছে, ক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা বেলা পৌনে ১২ টায় প্রথম হামলা করে ধুনট রোডের ট্রাফিক পুলিশ বাক্সে। এই ট্রাফিক পুলিশ বক্সে অগ্নি সংযোগ করার পর হামলা চালায় একই এলাকায় শেরপুর ধুনট এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে।
পরবর্তীতে শেরপুর থানা হামলার পথিমধ্যে তারা নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভাংচুর করে।
এরপর তারা আক্রমণ করে শেরপুর থানা ভবনে। এসময় ক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা থানা ভবন লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুঁড়েছে পুলিশ। এসময় পুলিশের সঙ্গে ছাত্র জনতার সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, আন্দোলনকারীরা দফায় দফায় থানায় আক্রমণ করার চেষ্টা করছে। বিকাল তিনটায় তারা তিন দিক থেকে আক্রমণ করার চেষ্টা চালিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।