ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের আম্বর আলী পাটোয়ারী বাড়ীতে স্ত্রী, দুই পুত্র ও পুত্র বধুর ছুরিকাঘাতে সিএনজি অটোরিকশা চালক মো: ইলিয়াস হোসেন (৪৮) খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ হাত পা বাঁধা অবস্থায় ইলিয়াসের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। রবিবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২ টায় উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব পাঠানগড় আম্বরআলী পাটোয়ারী বাড়ীতে এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ গতকাল সোমবার সকালে তার নিজ বাড়ী থেকে নিহত ইলিয়াসের স্ত্রী কহিনুর আক্তার (৩৮), দুই ছেলে শাহপরান আসিফ (২০),শাখাওয়াত প্রকাশ রাকিব (১৮) ও পুত্র বধু কামরুন নাহারকে (১৮) আটক করেছে। এব্যাপারে নিহতের বোন বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী ও মামলার বিবরণে জানাগেছে, সিএনজি অটোরিকশা চালক ইলিয়াস প্রায় মাদক সেবন করতো এবং বিভিন্ন সময় পরিবারের সদস্যদের অত্যাচার ও নির্যাতন করতো। ঘটনারদিন রাত ১১ টায় মাদক সেবন করে বাসায় ফেরার পর স্ত্রী সন্তানদের সাথে মাতলামি শুরু করে।
মাদকাসক্ত ইলিয়াসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী সন্তানরা তার হাত পা বেঁধে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আসামীরা সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই নাটক সাজিয়ে এবং স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে মর্মে প্রচার করে সকাল ১১ টায় জানাযার নামাজের সময় নির্ধারন করে আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়।
ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে অভিযুক্ত স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্র বধুকে আটক করা। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্হানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে নিহত ইলিয়াস নেশা করতো বলে জানা গেছে।