বগুড়ার শেরপুর পৌরশহরের উত্তর বাহিনী মহাশ্মশান চত্বরে সমাধিস্থ গোলাপি সরকার (৫০) নামে এক নারী লাশের মাথা কেটে নিয়ে গেছে দূর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতের কোনো এক সময় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এমন জঘন্য ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মৃত ওই নারী পৌরসভা সংলগ্ন লক্ষ্মীতোলা মহল্লার সুরেশ সরকারের স্ত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাতে মৃত গোলাপী সরকারের ছেলে রঞ্জিত সরকার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মহাশ্মশানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রমোদ সরকার বলেন, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতের কোনো এক সময় দূর্বৃত্তরা এই জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। শুক্রবার সকাল ছয়টায় দৃশ্যটি দেখে তিনি লাশের পরিবারকে খবর দেন।মৃতার স্বামী সুরেশ সরকার জানান, গোলাপী সরকার ১৬ দিন আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মারা যায়। এরপর মহাশ্মশানের সমাধিস্থলে তাঁর মৃতদেহ সমাধি করেছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাঁর স্ত্রীর লাশের সমাধিস্থল খুঁড়ে লাশের মাথা কেটে নিয়ে যাবে তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। শুক্রবার পুণরায় সমাধিটি মাটি দিয়ে ভরাট করেন।
বিভিন্ন মহল্লার লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, শেরপুরের এই শ্মশানটি উত্তর বাহিনী মহাশ্মশান হওয়ায় শেরপুর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী নন্দীগ্রাম, নাটোরের সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা অনেকের লাশ এই শ্মশানে সৎকারের জন্য নিয়ে আসা হয়। শ্মশানে সমাধিস্থল থেকে লাশের মাথা কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
শ্মশান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর চন্দন কুমার দাস রিংকু বলেন, শ্মশানে এমন ঘটনা এই প্রথম। এঘটনায় মৃতার ছেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ নিয়ে পুলিশি তদন্ত হবে। এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা সনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।