বগুড়ার শেরপুরে নির্বাচনী প্রচার বহরে হামলার ঘটনার ছয় বছর পর থানায় মামলা দায়ের করেছেন উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা (গোলাম)।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে শেরপুর থানা পুলিশ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এই মামলা এজাহার ভুক্ত করেছেন। আওয়ামীলীগ মনোনীত সাবেক সাংসদ হাবিবুর রহমান হাবিব পুত্র আসিফ ইকবাল সানিকে প্রধান আসামি করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৭৪ জন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো ৬০ জনকে।মামলা দায়েরের পর রাতেই মামলার তালিকাভুক্ত আসামী আওয়ামীলীগ কর্মী খিকিন্দা গ্রামের জামিল উদ্দিনকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গতকাল শনিবার (১৬ নভেম্বর) ভোররাতে নিজ বাড়ি থেকে জামিলকে গ্রেফতার করা হয়। দুপুরের পর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বগুড়ার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। থানা সুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া- ৫ (শেরপুর- ধুনট) আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন গোলাম মো. সিরাজ।ঘটনার দিন দলীয় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল, মাইক্রো ও জীপ গাড়ির বহর নিয়ে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের গোসাইবাড়ি বটতলা নামক স্থানে পৌঁছলে নির্বাচনী প্রচারণার ওই গাড়ির বহরের উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।এতে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করা অনেকে আহত হন। এ ঘটনায় দীর্ঘ দীর্ঘ ছয় বছর পর শুক্রবার রাতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
বাদির দায়ের করা এজাহার সূত্রে ও এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান বলেন, এই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বগুড়া- ৫ আসনের সাবেক আওয়ামীলীগের দলীয় সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের ছেলে আসিফ ইকবাল সানিকে (৪৮)। স্থানীয় আওয়ামীলীগেল দলীয় সূত্রে জানা গেছে , আসিফ ইকবাল সানি ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ধুনট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০১৮ সালে ওই নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলাকারীরা লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছিল। ওই সময় এই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বিএনপির অনেকে আহত হয়েছেন।
বাদির দায়ের করা এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, এই মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামির তালিকায় রয়েছেন শেরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম তারেক (৫০), শেরপুর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শুভ ইমরান (৩০), ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম খোকন (৪৫), বগুড়া- ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারি (পিএস) কোরবান আলী ওরফে মিলন (৪২) সহ আরও ৭৪ জন।এজাহারভুক্ত সকলেই স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।