ঢাকা-টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণের এলেঙ্গা অংশের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে বৃষ্টিতে কাদা আর রোদে ধুলার ওড়াউড়িতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। নামমাত্র পানি দিয়ে দায় সারছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান- এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। বৃষ্টিতে থকথকে কাদা আর রোদে রাস্তার এসব কাদা ধুলাবালিতে পরিণত হয়ে ঘন কুয়াশার মতো আচ্ছাদন তৈরি করে।
ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ রাস্তার দুই পাশে বসবাসকারী মানুষ, পথচারী, পরিবহন চালক ও যাত্রীদের মতে, ধুলার অন্ধকারে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ কথা না বললেও টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে আগামী দুই মাসের মধ্যেই ধুলাবালি আর থাকবে না।
এলেঙ্গা থেকে জামালপুর মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের মার্চ মাসের দিকে। তারপর থেকেই দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি এই রাস্তায় চলাচলকারীদের। টাঙ্গাইল অংশে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন এ পর্যন্ত রাস্তার কাজ ৭০ ভাগ শেষ করেছে। পুরাতন রাস্তার ওপরের অংশ কেটে খোয়া আর মাটি দিয়ে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় বৃষ্টিতে কাদা আর রোদে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ পরিবহন চালক ও যাত্রী সাধারণ। অপরদিকে, রোদের সময় রাস্তায় ঠিকমতো পানি না দেওয়ার কারণে দ্বিগুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। রোদে তাপমাত্রা বাড়লেই ধুলাবালির মাত্রা আরও বেড়ে ঘন কুয়াশার আকার ধারণ করে। এ কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন পরিবহন চালকরা। এছাড়াও ধুলাবালিতে বাধ্য হয়েই চলছে ছোট ছোট গাড়ি।

৫২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এলেঙ্গা থেকে জামালপুর মহাসড়কের ৭০ কিলোমিটার রাস্তার টাঙ্গাইল অংশে রয়েছে ৫৮ কিলোমিটার। কাজটির রক্ষাপ্রদ কাজ, রিজিড পেডমেন্ট, সার্ভেসিং কাজ, ডিজাইন সংশোধন এবং সেই সঙ্গে করোনাকালীন কাজ ঠিকমতো না হওয়ায় এই সড়কের কাজের মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
এই মহাসড়কে বেশিরভাগ কাজ শেষ হলেও ব্রিজের দুইপাশ ও রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এসব ধুলাবালি। নিয়মিত পানি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহনের চালক ইয়াছিন ও স্থানীয় বাসিন্দা বেল্লাল মন্ডল।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক হাফিজকে কয়েকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
রাস্তার কাজ নিয়মিত চলছে এবং পানিও ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল। সেই সঙ্গে আগামী ২ মাসের মধ্যে ছোট ছোট সমস্যাগুলোও থাকবে না বলে জানালেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই কর্মকর্তা।