জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি শামসুল হক চৌধুরীসহ ৬ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দদুক)। তাদের মধ্যে একজন সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রীও রয়েছেন। তিনি হলেন, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী।
দুদকের তালিকায় থাকা অপর এমপিরা হলেন- সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং বরিশাল-৪ আসনের পঙ্কজ দেবনাথ, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি শহীদুল ইসলাম পাপুল ও পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৯-এর স্বতন্ত্র এমপি সেলিনা ইসলাম।
উল্লেখিত সাংসদ ও তার স্ত্রী সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ পাওয়া গেছে বলে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে দুদকের কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, সংসদ সদস্যদের আয়কর নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিছু তথ্য এসেছে।
তিনি আরও বলেন, শহীদুল ইসলাম পাপুলের অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। আমরা শিগগিরই তার বিরুদ্ধে মামলা করব।
একই বিষয়ে দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মইদুল ইসলাম বলেন, এসব সংসদ সদস্যের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে কোন বাধা আছে বলে আমি মনে করি না। বাধা থাকলে এ ধরনের কোন কার্যক্রম হাতে নেওয়া যেতো না। কাজ অনেকখানি এগিয়েছে। আমি ভালো একটি উদ্যোগ দেখছি। তাদের অনুসন্ধান দ্রুত হোক এটাই আমার প্রত্যাশা।
দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে নাম আসে ৫ এমপির। দুদকের গোয়েন্দা দলের অনুসন্ধানেও তাদের বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বাইরে গত ফেব্রুয়ারিতে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মানব পাচারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। কুয়েতের সিআইডি মানব পাচার, অর্থপাচার ও বিভিন্ন জনকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। একই অভিযোগে পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
এছাড়া সম্প্রতি সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী ১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, খাস পুকুর ইজারায় দুর্নীতি, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্কুল কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মসহ ২৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দুদকে জমা হয়েছে।
শামশুল হক চৌধুরী: ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান চলাকালে আলোচনায় আসেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য শামশুল হক চৌধুরী। চট্টগ্রামের আবাহনী ক্লাবে জুয়া থেকে শামশুল হক চৌধুরী ৫ বছরে ১৮০ কোটি টাকা আয় করেছেন বলে উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন পুলিশের পরিদর্শক সাইফ আমিন। পরে ওই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
এছাড়া একই ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী দাবি করেন ক্যাসিনো বোর্ড থেকে হুইপ শামশুলের দৈনিক আয় ছিল ৬ লাখ টাকা। থানায় করা একটি জিডিতেও তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন। ওই সময় এ নিয়ে ব্যাপক হইচই হয়। পরে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং আবাহনী ক্লাবে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব।
ওই সময় চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, আবাহনী ক্লাবে জুয়ার আসর থেকে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। তিনি এ কারণে আবাহনী ক্লাবের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চিঠি দেন। চিঠি দেয়ার কারণে হুইপের ছেলে তাকে হত্যার হুমকি দেন উল্লেখ করে থানায় জিডিও করেন। তবে ১৮০ কোটি টাকা আয়ের মিথ্যা, আজগুবি ও হাস্যকর তথ্য ফেসবুকে দেয়ায় পুলিশ পরিদর্শক সাইফ আমিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
এছাড়াও শামসুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দারা।
ওমর ফারুক চৌধুরী : রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে যে ২৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে।
সেগুলির মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে— ৯৯ জন সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম; ১০ টাকার চালে ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি; আর্থিক সুবিধা ও স্বজন প্রীতির মাধ্যমে স্কুল-কলেজে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ; খাস জমি ও জলমহাল ইজারায় নজিরবিহীন দুর্নীতি, সরকারি গুদামে ধান, চাল ও গম ক্রয়ে দুর্নীতি, গভীর নলকূপের অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম; প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী নিয়োগে দুর্নীতি, টিআর-কাবিখা বণ্টনে দুর্নীতি ও অনিয়ম, উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাচারিতা। এসব অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন রতন: দুদকে জমা হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, পেশায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলী রতন ২০০৮ সালে হঠাৎ নৌকার টিকিট পেয়ে সাংসদ হন। শূন্য থেকে তিনি ঢাকা, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনায় ১৩টি বিলাসবহুল বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। ক্যাসিনো কারবারেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। রতন ধর্মপাশায় নিজ গ্রামে ১০ কোটি টাকায় ‘হাওর বিলাস’ নামে বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন। বাড়িটির অধিকাংশ জমি জনৈক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তির কাছ থেকে দখল করা। সুনামগঞ্জ শহরের মল্লিকপুরে জেলা পুলিশ লাইনসের বিপরীতে ৭ কোটি টাকায় বাড়ি কেনেন রতন। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পায়েল পিউ’। বাড়িটি এক লন্ডনপ্রবাসীর কাছ থেকে কিনে নেন তিনি। ধর্মপাশা উপজেলা সদরে তার আরও সাতটি বাড়ি রয়েছে। মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরেও রয়েছে দুটি বাড়ি। নেত্রকোনা জেলা শহরেও একটি বাড়ি রয়েছে। নেত্রকোনা শহরে তার মা-বাবার নামে মেডিকেল কলেজ করার জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি ক্রয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া ঢাকার গুলশান নিকেতনের কয়েকটি ফ্ল্যাটের মালিক রতন। গত কয়েক বছরে তার সহোদর যতন মিয়ার নামে ৫০০ একর জমি কেনা হয়েছে। রতনের কানাডায়ও বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এমপি রতন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে দুদক। এছাড়া তাকে দুদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
শহীদুল ইসলাম পাপুল ও সেলিনা ইসলাম: লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এই পরিচালক বিদেশে ব্যবসার আড়ালে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৮০ কোটি টাকা হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেছেন। এ টাকার মধ্যে তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতিঝিল শাখার একটি হিসাবের মাধ্যমে ১৩২ কোটি টাকা ও প্রাইম ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা পাচার করেন। ইউসিবিএলের মাধ্যমে ১০ কোটি ও প্রাইম ব্যাংকে ঋণ সৃষ্টি করে ১০ কোটি টাকা পাচার করেন। বাকি টাকা পাপুল তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং জেডডাব্লিউ লীলাবালি নামক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করেন।
কয়েকজন ব্যাংক মালিক অর্থ পাচারে পাপুলকে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৫০ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন পাপুল, স্ত্রীর নামে একই ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে অংশীদার হয়েছেন।
গুলশান-১-এর ১৬ নম্বর সড়কে গাউছিয়া ডেভেলপমেন্টের প্রকল্পে মেয়ে ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট, গুলশান-২-এর পিংক সিটির পেছনে গাউছিয়া ইসলামিয়া প্রকল্পে স্ত্রীর নামে ৯০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, স্ত্রী ও নিজের নামে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৯১ কোটি টাকার সম্পদ আছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ঢাকার ওয়েজ অনার্স শাখায় স্ত্রীর নামে ৫০ কোটি টাকার ওয়েজ ওনার্স বন্ড ও মেয়ের নামে ২০ কোটি টাকার বন্ড আছে। শ্যালিকার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনে নিজে ব্যবহার করছেন। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে নিজ নামে ৪০ কোটি, মেয়ের নামে ১০ কোটি ও স্ত্রীর নামে ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রীর নামে একটি ছয়তলা বাড়ি আছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পাপুল ব্যাংক পরিচালক হয়েও বেআইনিভাবে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করে চার পরিচালক বোর্ডসভায় অনুমতি ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টির সুবিধা ভোগ করছেন। এই ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে পাপুল রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথর সরবরাহের ব্যবসা করছেন। তার সহযোগী হিসেবে অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের একটি উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের এক সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সবাইকে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়া পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
পঙ্কজ দেবনাথ: বরিশাল-৪ আসনের (মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কাজীরহাট) সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন খোদ তার নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য পঙ্কজ দেবনাথ এলাকায় হত্যা, চোরাচালান, দলীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও নৈরাজ্যসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বরিশাল-৪ আসনভুক্ত এলাকার ‘নির্যাতন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-মাদক প্রতিরোধ কমিটি’।
সংগঠনের সদস্যসচিব ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাগর বলেন, পঙ্কজ দেবনাথের খবরদারি, জুলুম, অন্যায় ও অত্যাচারের কারণে এলাকায় দলের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। তার অপকর্মের জন্য এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের ভাবমূর্তি সংকট দেখা দিচ্ছে।
দুদকে জমা হওয়া অভিযোগের তথ্য মতে, পঙ্কজ দেবনাথ ওয়ান ইলেভেনের সময় শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তার নির্বাচনী এলাকা বরিশাল-৪ আসনসহ রাজধানীর উত্তরা ও ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল বাড়ি, অভিজাত এলাকায় নামে-বেনামে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও গার্মেন্টস রয়েছে। ভারতেও তার একাধিক বাড়ি ও মার্কেট রয়েছে। তিনি হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন। তিনি ২০১৭ সালে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৫ জন নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরির কাছ থেকে ৫-৭ লাখ টাকা করে নিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন। এছাড়াও হাইস্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ডোনেশানের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেন।
পঙ্কজ নিজস্ব সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী গঠন করে খেয়াঘাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, জলাশয়, লঞ্চঘাট, হাট-বাজার, নদীর বালু, মাছের পাড়া, খাদ্য গোডাউন, ভূমি অফিস, ইটভাটা থেকে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন। তিনি সরকারি খাস জমি বরাদ্দের নামেও বাণিজ্য করেছেন। দখল বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।