শারদুর্গোৎসবের শেষ দিন আজ। নানা ধর্মীয় আচারের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার মহানবমী পালিত হয়েছে । আজ সোমবার শুভ বিজয়া দশমী। বৈশ্বিক করোনা মহামারি থেকে পরিত্রান ও সৃষ্টিকর্তার সব সৃষ্টির মঙ্গল কামনা এবং প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ সমাপ্তি ঘটবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবের। বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে জাতীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদের বেঁধে দেওয়া ২৬ দফা সর্তকতামূলক নির্দেশনা মাথায় নিয়ে এবারের পূজা উদযাপন করলো পূজা মন্ডপ কমিটি। সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সারা দেশের সব পূজামণ্ডপে মহানবমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মোট ৭৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে শেরপুর পৌর শহরে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৯টি পুজা মণ্ডপে। তবে আজ সব মণ্ডপেই থাকবে বিষাদের সুর। কারণ, আজ বিজয়া দশমীর দিনে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা। পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের পাঁচ দিনের আনন্দ-উল্লাস আর বিজয়ার অশ্রু। তবে মহামারি করোনার কারণে এবারের পূজা মন্ডপে ছিলোনা কোনো ডিজে সাউন্ড সিস্টেম এমনকি মন্ডপে মন্ডপে ছিলোনা উপছে পড়া মানুষের ভিঁড়, এবং মুখে মাস্ক পড়া প্রতিমা দর্শন করা মানুষের সংখ্যা ছিল লক্ষণীয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল দেবীপক্ষ। আর ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হয় পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিবারের মতো মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান পালন করেছেন। পুরোহিত জয়ন্ত ভট্টাচার্য জানান গতকাল নবমীর পর পরই শুরু হয়েছে দশমীর লগ্ন, দশমীর দিনে আজ বেলা ১২টার মধ্যে বিজয়া দশমীর বিহিত পুজা শেষ ও দর্পণ বির্সজন। পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার দোলায় চেপে মর্ত্যলোকে এসেছিলেন। আজ স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন গজ্বে চড়ে। যে কারণে শস্যে ভরা থাকবে এই ধরা। শেরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাঃ সম্পাদক সংগ্রাম কুমার কুন্ডু বলেন, উপজেলা জুড়ে এবার ৭৯টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । এর মধ্যে পৌর শহরে হচ্ছে ২৯টি। মহামারি করোনার কারণে এবারের দূর্গাপূজা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পালন করা হচ্ছে । এছাড়াও পুলিশ প্রশাসনের ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয় যার কারণে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়াও আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য ছেলে প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল সনি তাঁদের নিজ নিজ তহবিল থেকে উপজেলার প্রতিটি দূর্গামন্ডপে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এবিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন করোনার কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এবারের দূর্গা একটু ব্যাতিক্রম, তাই শোভাযাত্রা হবেনা। পুলিশ আইন শৃংখলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দিকেও বিশেষ নজর রেখেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকেও কাঙ্খিত সাড়া পেয়েছি।