সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন পাগলা চিতাশাল এলাকায় ৩৫ বছর বয়সী স্বামী পরিত্যক্তা এক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষনের শিকার হয়ে গর্ভবতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, এ ঘটনায় ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী নারীর ভাই বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পাগলা চিতাশাল এলাকার কুসুমবাগ ২ নং গলির খালেক দেওয়ানের পুত্র খলিলুর রহমান(৪২) ও একই এলাকার বজলুর রহমানের পুত্র মোঃ রাসেল (৪৩) কে আসামী করে বুধবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রতিবন্ধী মেয়েটির বাবার কাছে প্রকৃত ঘটনাটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, খলিলুর রহমান আমাদের বাড়িতে বিগত সময়ে প্রায় ২ বছর ভাড়া ছিল। সে সুবাদে আমাদের পূর্ব পরিচিত। ধর্ষণের ঘটনার পর আমার মেয়ে ও আমাদের সম্মানহানি যেন না হয় সেজন্য আমরা উভয় পক্ষ সমঝোতায় আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা সে বিষয়ে রাজি হয়নি।
এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী মেয়েটির ভাইয়ের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে প্রতিবেদককে বলেন। এক পর্যায়ে প্রতিবেদক ঘটনার তারিখ এবং কিভাবে এর সূত্রপাত হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে, তিনি কয়েকটি তারিখের কথা বলেন। তারপর একসময় প্রতিবেদকদের এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের সঠিক তথ্য দিতে তিনি ইস্তত বোধ করেন। অথচ এর আগেও বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে তারা এ সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। কিন্তু ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে, প্রতিবেদককে কোন এভিডেন্স তারা দেখাতে পারেনি। অথচ ধর্ষিতার ভাই বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা করেছে বলে জানা যায়।তিনি, প্রতিবেদককে ধর্ষিতা যে প্রেগন্যান্ট সে ধরনের কোনো কাগজপত্র দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকরা সবসময় তথ্য প্রকাশে সঠিক পন্থা অবলম্বন করেন, কিন্তু ধর্ষিতার ভাই বাদি আলী হাসান সঠিক তথ্য জানাতে কেন ইতস্তত বোধ করল সে বিষয়ে কাল ধোঁয়াশা রয়ে গেল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পরিবার বলেন, চিতাশালের মতো একটি জনবহুল এলাকায় আমাদের ফার্মেসিটি। যেখানে জনসাধারণের অবাধ চলাচল। এমন একটি জায়গায় দুপুর ১ টা বাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটে কিভাবে? এরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমাদের নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। প্রতিবন্ধী মেয়েটির ছোট বোন আমার ছেলেকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। আমার ছেলে রাজি না হওয়ায় তার ভাইকে বাদী করে আমাদের পরিবারকে মিথ্যে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। এক পর্যায়ে প্রতিবেদক অভিযুক্তের পরিবারকে জিজ্ঞাসা করেন, মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে বহুবার ধর্ষণ করা হয়েছে এ বিষয়টি সত্যি কি না। তারা তখন জানান, এ ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। কারণ, আমরা তাদের বাসায় ভাড়া ছিলাম বিগত দুই বছর। তখন এধরনের কথা আসেনি। কিন্তু হঠাৎ করে এই ধরনের মন্তব্য কেন? আর যদি ফার্মেসির মধ্যে ধর্ষণই হয়ে থাকে তাহলে এলাকাবাসী তো সাথে সাথে জেনেই আমার ছেলের উপর আইনানুগ ব্যবস্থা নিত। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আমরা আশাবাদী সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচার করা হবে।