ইউপি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের এমন বক্তব্যকে ‘শালীনতা বহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।
রোববার নির্বাচন এখন ‘আইসিইউতে’ ও গণতন্ত্র ‘লাইফ সাপোর্টে’ বলে ‘আমার কথা’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাহবুব তালুকদার।
সোমবার বিকালে ঢাকায় নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, উনি যে কথাগুলো ব্যবহার করেছেন সেগুলো শালীনতা বহির্ভূত। আইসিইউ, লাইফ সাপোর্ট- এ কথাগুলো শালীন মনে করি না। নির্বাচন কমিশনে থেকে নির্বাচন নিয়ে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সফল করা যায়- এটা ইসি সদস্যদের দায়িত্ব। উনি সব সময় এ ধরনের কথা বলেন, করার কিছু নেই।
নূরুল হুদা ‘কারও অনুপস্থিতিতে তার বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়’ উল্লেখ করলেও পরে এসব মন্তব্য করেন। সিইসি বলেন, উনি (মাহবুব তালুকদার) সব সময় এরকম করে থাকেন। এ নিয়ে আমরা জিজ্ঞাসাও করি না, জানতেও চাই না। কমিশন সভা বসলে হোমওয়ার্ক করে বসেন, প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। সভায় সব সদস্য কন্ট্রিবিউট করেন; প্রতিটি মিটিংয়ে চিন্তাভাবনা করে যান তারা। মাহবুব সাহেব কোনো চিন্তাভাবনা করেন না।
তিনি বলেন, উনি ৭/৮ দিন পর্যন্ত একটা শব্দ চয়ন করার জন্য ব্যয় করেন। কোন শব্দটা দিলে আপনার এরকম বলবেন, প্রশ্ন করবেন- আইসিইউ, লাইফ সাপোর্ট। এ শব্দগুলো অনেকে ঘেঁটে ঘেঁটে তারপরে করে এভাবে ছেড়ে দেন। এটা পাঁচ বছর ধরে দেখেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই বলেও দাবি করেন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে থেকে নির্বাচন কীভাবে সফল করা যায়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বলে… উনি তো বলেন। এক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেখানে ৭৪ শতাংশ ভোট (কাস্ট) হয় সেই নির্বাচন নিয়ে ‘দেশে নির্বাচন নেই’, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নেই’, ‘মানুষ নির্বাচনের কালচার থেকে সরে গেছে’; এটা তো হতে পারে না। আমি এটা বিশ্বাসও করি না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন, ইসি সচিব মো হুমায়ুন কবীর খন্দকার।