সারাদিন কায়িক পরিশ্রম শেষে এখন আর ফুটপাথ বা অন্যের ঘরে থাকতে হবে না। ভূমি ও গৃহহীন হতদরিদ্র মরিয়ম এখন প্রতিদিন ফিরতে পারবেন নিজ ঘরে। শুধু ঘরই নয়, থাকছে নিজ নামে ২ শতক জমি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, সুন্দর বারান্দাসহ বসবাসের নিরাপদ সুবিধা।
আর এই আনন্দে প্রাণখোলা উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে বিবি মরিয়মের মুখে। ষাটোর্ধ্ব বিবি মরিয়মের পান খাওয়া লাল ঠোঁটে যেন অনেকটা রাজ্য জয়ের হাসি। দীর্ঘ ৪০ বছর পর অধরা স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর পাওয়ার মধ্য দিয়ে।
মরিয়মদের স্থায়ী নিবাস ছিল বরিশালের কলাপড়া থানাধীন রহমতপুর গ্রামে। চল্লিশ বছর আগে নদীভাঙনে তাদের ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হলে স্বামী-সন্তান নিয়ে চলে আসেন ফেনীর ছাগলনাইয়ায়। কিছুদিন এখানে তো আর কিছুদিন অন্যখানে। ৪০ বছর ধরে ভাসমান জীবন। অবশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার জমিসহ একটি ঘর পেয়ে তাদের ৪০ বছরে দুঃখ ঘুচল।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাইস মিলে শ্রম দিয়ে সংসার খরচ জোগাড় করলেও হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় মিলটি। এরপর স্বামী ফজলুল হক হাওলাদার এদিক-ওদিক ফেরি করে পান-সিগারেট বিক্রির কাজে লেগে কোনোমতে চলে জীবন-সংগ্রামের চাকা। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি পাকা ঘরবাড়ি পেয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে জানান বিবি মরিয়ম। তিনি বলেন, এ উপহার তার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে মনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বিবি মরিয়ম এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চল্লিশ বছর অন্যের ঘর ভাড়া নিয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করেছি। এখন নিজের ঘরে বসবাস করতে পেরে আমি ও আমার পরিবার খুবই খুশি। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় ধাপে ছাগলনাইয়ায় ৩৮ জন গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে ঘর প্রদান করা হচ্ছে। বিবি মরিয়ম ছাগলনাইয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড মটুয়া নতুনপাড়ায় স্থাপিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছেন।
ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌমিতা দাশ বলেন, এসব ঘরে আশ্রয় পাওয়াদের অধিকাংশই রাস্তার ধারে ফুটপাথ বা কারও আশ্রয়ে বসবাস করতেন। তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উপহার পেলেন। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে জানান তিনি।