বগুড়ার শেরপুরে ছাত্রকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে শ্রেণি শিক্ষক। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর ) উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কালসিমাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্র নাসিম ঐ স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং বাংড়া উত্তর পাড়া গ্রামের সেনেটারী মিস্ত্রি আব্দুল খালেকের ছেলে।
এ ঘটনায় বুধবার (২৬ অক্টোবর ) বেলা ১১ টার দিকে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ নজরুল ইসলাম । তিনি ঐ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে ভুক্তভোগী নাসিমের সহপাঠীদের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে ভয়ে ভীতস্ত হয়ে নিরব থাকে তারা। পরে শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের অভয়ের আশ্বস্ত করলে তারা জানায়, ঘটনার দিন গণিত শিক্ষক হারুনুর রশিদ ওই সময় সপ্তম শ্রেণিতে জ্যামিতি ক্লাস নিচ্ছিলেন, এসময় নাসিমের জ্যামিতি পড়া না হওয়ায় শিক্ষক হারুনুর রশিদ তাকে বেঞ্চের উপর দুই কান ধরে নীল ডাউন দিয়ে রাখে। এমতাবস্থায় প্রায় ২০ মিনিট পর নীল ডাউন অবস্থায় নাসিম নিজের দুই কান ছেড়ে দিলে, শিক্ষক হারুনুর রশিদের দৃষ্টি গোচর হয় এবং রাগান্বিত হয়ে হাতে থাকা ডাস্টার দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটানো শুরু করলে নাসিম অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থবস্থায় তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে এক্সরে করার পর চিকিৎসক জানান, নাসিমের বাম হাতের কুনুইয়ে আঘাত পেয়ে ফ্যাকচার হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও ঐ শিক্ষক প্রায়ই ছাত্রদের মারধর করেন বলেও জানায় শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক হারুনুর রশিদ ছুটির আবেদন না দিয়েই স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছে। মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, প্রথমে শিক্ষক হারুনুর রশিদ ঘটনাটি অস্বীকার করে, পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের বেড়াজালে ঘটনাটি স্বিকার করেন তিনি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী ছাত্র নাসিম জানায়, আমি আমার বাড়িতে প্রাইভেট পড়ি, আর যেসব ছাত্র ঐ শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট না পড়ে কেবল তাদেরকেই বেশী বেশী মারধর করে।
নাসিমের বাবা আব্দুল খালেক গণমাধ্যমকর্মীদের বলে, আমি সামান্য খেটে খাওয়া মানুষ। ছেলেটাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, কিন্তু আমার ছেলে এই ছোট বয়সেই যে আঘাত পেল তাতে আমার ছেলের পড়ালেখা হবে কি-না তা জানিনা। আপনাদের মাধ্যমে এর উপযুক্ত বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি, কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।