সিত্রাংয়ের সৃষ্টি হওয়া, তার বিস্তৃতি বা আঘাত হানার যে পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তর দিয়েছিল, তাতে বিস্তর ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা থাকলেও প্রচুর বৃষ্টি ঝরিয়ে তুলনামূলক দুর্বল ঝড় হিসেবেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে সিত্রাং। তবে টানা ঝড়ো হাওয়া, অবিরাম ভারী বর্ষণ আর জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে বা উপচে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে, ভেঙে বা উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। ধসে পড়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। প্লাবনে ভেসে গেছে গবাদিপশু, মাছের ঘের, ধান আর সবজিক্ষেত।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য বলছে, মোট ৪১৯টি ইউনিয়নে ঝড় ক্ষতির চিহ্ন রেখে গেছে। উড়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার ঘর। কিছু স্থানে সড়ক ও বাঁধ ভেঙেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল, ভেসে গেছে এক হাজার মাছের ঘের। তবে সময় যত যাচ্ছে বিপর্যস্ত এলাকাগুলো থেকে ততই আসছে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। সার্বিক চিত্র না পাওয়া গেলেও স্থানীয় পর্যায় থেকে ক্ষতির প্রাথমিক যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে তা সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের শঙ্কা, সঠিক হিসাব না পাওয়া গেলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পাও বিঘ্নিত হবে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বঞ্চিত হবে।
তারা বলছেন, করোনা আর ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশকেও যে চাপ সামলাতে হচ্ছে তাতে বন্যা এবং সিত্রাং নতুন ধাক্কা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সমন্বিত ও স্বচ্ছ পরিকল্পনা না নিলে সিত্রাংয়ের ক্ষতও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
সার্বিক চিত্র না পাওয়া গেলেও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে স্থানীয় পর্যায় থেকে ক্ষতির যে প্রাথমিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে, উপকূলীয় জেলাগুলোতেই ক্ষতি হয়েছে বেশি। তবে সিত্রাংয়ের গতিপথে পড়া মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ফল-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলাগুলোর মধ্যে বাঁশখালীর সাধনপুর, খানখানাবাদ; সন্দ্বীপের সারিকাইত, মগধরা, আজিমপুর, মাইটভাঙা ও কালাপানিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে সাগর তীরে বসবাসকারী প্রায় ২৫০ জেলে পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের সংখ্যা ৯৪টি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৭৬০টি বাড়িঘর। জেলার ৬৬টি ইউনিয়নের ৫৮ হাজার মানুষ ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বেশির ভাগ আড়তে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পণ্য। ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু জোয়ারের পানিতে বেশির ভাগ ভবনের নিচতলার বিভিন্ন দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে পড়ে। এতে সেখানে রাখা চাল, ডাল, চিনি, মসলা, পেঁয়াজ, আদাসহ বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।
উপকূলের আরেক জেলা কক্সবাজারের ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে কুতুবদিয়া, মহেশখালীর ধলঘাটা, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, সদর উপজেলার কুতুবদিয়া পাড়ায় জোয়ারের পানি ঢুকেছে। এসব এলাকায় দুই শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এতে ৫ হাজার ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৪০০ ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, কক্সবাজার জেলার ৪৭টি ইউনিয়ন ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ২০০-এর বেশি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। দুর্গত এলাকার অনেকেই এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তাণ্ডবে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৫২ হেক্টর জমির রোপা আমন, শরৎ ও শীতকালীন ফসল। জেলার হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সদর ও সুবর্ণচর উপজেলায় শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহীদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৮ হাজার ৬৩৯ হেক্টর রোপা আমন, ৯৩৬ হেক্টর শীতকালীন ও ১৭৭ হেক্টর শরৎকালীন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিত্রাংয়ের আঘাতে ভোলা সদর, দৌলতখান, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া গেছে। জেলায় প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮৯০টি বাড়ি আংশিক এবং ১ হাজার ৪৩৩টি ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় দুই লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কিছু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা আছে। পুরো জেলায় ফসলের ক্ষতির হিসাব পাওয়া না গেলেও কেবল চরফ্যাশনেই প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ধান ও শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়েছে।
বরগুনায় আমন ধানের ক্ষতি তেমন না হলেও জোয়ারের পানি আর বৃষ্টিতে ২০ হেক্টর জমির সবজি এবং ৪ হেক্টর জমির পানের বরজের ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরে ও নিচু স্থানের ৪৫৭টি মাছের খামার ও ৩৮টি পুকুর ভেসে গেছে। জেলাটিতে ৩৬৮ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়ে প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
সিত্রাংয়ের প্রভাবে বরিশাল জেলার ৮৭টি ইউনিয়ন দুর্যোগে কবলিত হয়েছে। এতে দুর্গত মানুষের আনুমানিক সংখ্যা ৯০ হাজার ৬২১। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’য়ের প্রভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৪১টি ঘর। এর মধ্যে আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ২ হাজার ৫০৮টি ও পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে ৬৩৩টি ঘর। ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’য়ের প্রভাবে বরিশালে মৎস্য খাতে ২৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে মাঠে থাকা আমন ধান, পান, পেঁপে ও সবজির। মাদারীপুরে ৫০০ হেক্টর জমির আমন ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীতে দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে শতাধিক ঘের-পুকুরের মাছ। এ ছাড়া ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর আমন এবং ৩০০ হেক্টর জমির শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। পিরোজপুরে ৬৪ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৩২৯টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
বাগেরহাটে ৮৫০ হেক্টর রোপা আমন, ৩৭৫ হেক্টর সবজি, ১৭ হেক্টর পান, ৩৩ হেক্টর কলা, মরিচ বীজতলা, ৫২৫টি মাছের ঘের ও ২২৫টি পুকুর ভেসে গেছে। তবে সদর উপজেলার ভৈরব নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে মাঝিডাঙ্গা, পোলঘাট ও রহিমাবাদ গ্রামে পানি ঢুকে তলিয়ে যায়। এতে ওই তিন গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আছে প্লাবনের ঝুঁকিও। এ ছাড়া জেলায় এখনো লক্ষাধিক গ্রাহক আছেন বিদ্যুৎহীন।
সিত্রাংয়ের প্রভাবে দুই দিনের টানা বৃষ্টির ফলে এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলে প্রবল জোয়ারের উত্তাল ঢেউয়ে জরাজীর্ণ উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের অন্তত ৭টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে উপকূল রক্ষা বাঁধের কয়েক ফুট। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী কৈখালী ইউনিয়নের নৈকাটি, বিজিবি ক্যাম্পসহ আদম আলীর বাড়ি সংলগ্ন অংশে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধে ধস দেখা যায়। জোয়ারের পাশাপাশি ঢেউয়ের তীব্রতায় সোমবার বাঁধের এসব অংশ পাশের কালিন্দি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সিত্রাংয়ের প্রভাবে কপোতাক্ষ নদের প্রবল স্রোতে ১০-১২ ফুট চওড়া বাঁধটি ভেঙে এখন মাত্র দেড় থেকে দুই ফুট অবশিষ্ট রয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে প্রতাপনগর ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত ও মাছের ঘের প্লাবিত হতে পারে।
সিত্রাংয়ের প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টিতে কুমিল্লায় ৬৬৫ হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সঞ্চালন লাইনের। নরসিংদীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০০ হেক্টর কলাগাছ। মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় ৭৩৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমন ধান, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, মাষকলাই, সরিষা, পেঁপে ও কলাবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাদারীপুরে ভারী বৃষ্টিপাতে ৫০০ হেক্টর জমির আমন ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরীয়তপুরেও শতাধিক হেক্টর জমির ধান ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘মাঠ প্রশাসন এটা অ্যাসেস করবে, তারপর জেলা পর্যায়ে ডিসিরা আমাদের কাছে রিপোর্ট পাঠাবেন। এরপর একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে। সেখানে যার যার মন্ত্রণালয় ক্ষয়ক্ষতি উপস্থাপন করবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা সহায়তা ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করব।’ তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে ৭ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগেও মৎসঘেরের ক্ষতি হয়েছে, যদিও এবার সামান্য। তারপরও ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। যিনি যে পরিমাণ আবেদন করবেন, তাকে সেই অনুযায়ী দেওয়া হয়। আমরা জেলা প্রশাসনকে বলেছি চাহিদা পাঠাতে। চাহিদা এলে আমরা বরাদ্দ দিতে পারব। আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ টিন ও নগদ টাকা আছে।’
ঘূর্ণিঝড়ের সময় ৬ হাজার ৯২৫ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ উঠেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্গতদের রান্না করা এবং শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’ স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যেভাবে সিত্রাং সৃষ্টি হয়েছিল, এর যে বিস্তৃতি ছিল, যে পূর্বাভাস ছিল, তাতে অনেক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা জেগে উঠেছিল, তেমনটা হয়নি।’
তবে ক্ষতি কম হলেও এই সময়টায় সেটাই বড় বলে মনে করছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও একেবারে নগণ্যও নয়। এবারের বিষয় হচ্ছে, আগে থেকেই মানুষ নানামুখী চাপের মধ্যে আছে। খাদ্যশস্যের দাম এখনই অনেক বেশি। এবার উৎপাদন কম হবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতির মধ্যে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতিকে ত্বরিত আমলে নিতে হবে।’
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষতিপূরণসহ যেসব পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া হবে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছেন তিনি। অর্থনীতির এই গবেষক একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মাঠের যেসব ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের হাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি সহায়তা যাতে পৌঁছানো যায়; সরকারকে এদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’