বিএনপির যে ছয়জন সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেছেন তাদের আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
রবিবার রাতে এই গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। পদত্যাগ করা বিএনপির ছয় নেতার নামে আলাদা আলাদা গেজেট প্রকাশ হয়েছে। তারা হলেন—জাহিদুর রহমান, মোশারফ হোসেন, জিএম সিরাজ, আমিনুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার ভূঞা ও রুমিন ফারহানা। গেজেটে বলা হয়েছে, ১১ ডিসেম্বর পূর্বাহ্ণে পদত্যাগ করায় একাদশ সংসদের আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হলো।
শূন্যঘোষিত আসনগুলো হচ্ছে—ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও সংরক্ষিত মহিলা আসন-৫০। ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনগুলোতে উপনির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদকে ফের পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। কারণ তার স্ক্যান করা সই ও ইমেইলে পাঠানো পদত্যাগপত্র ‘যথাযথ’ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে সংবিধানের ৬৭(২)-এ বলা হয়েছে, ‘কোনো সংসদ-সদস্য স্পিকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন, এবং স্পিকার কিংবা স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে বা অন্য কোনো কারণে স্পিকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ডেপুটি স্পিকার—যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হবে।’ সংবিধানের ১২৩(৪)-এ বলা হয়েছে, সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনার (ইসি) মোহাম্মদ আলমগীর রবিবার বিকালে জানিয়েছিলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যদের (এমপি) পদত্যাগের বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে আসনগুলোতে উপনির্বাচন করা হবে।
বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, ‘আসন শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত গেজেট না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাজ শুরু করার সুযোগ নেই। কোনো মাননীয় সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলে নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে, এটাই ইসির দায়িত্ব।’
নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপির সংসদ সদস্যরা শনিবার ঢাকার গোলাপবাগের সমাবেশ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পরদিন তারা সংসদ ভবনে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসেন।