ডিজিটাল বাংলাদেশ করা হয়েছে বলেই করোনাকালে কোনো কাজ থেমে থাকেনি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন আমাদের টার্গেট ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে স্মার্ট, সমাজ হবে স্মার্ট সোসাইটি।
সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি মৌলিক স্তম্ভ। এক, স্মার্ট সিটিজেন। প্রতিটি নাগরিক (সিটিজেন) প্রযুক্তি ব্যবহারে হবে দক্ষ এবং উপযোগী। দুই, স্মার্ট ইকোনমি। আমাদের অর্থনীতির সব লেনদেন ও ব্যবহার হবে প্রযুক্তি নির্ভর। তিন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট। সরকারি সব সুযোগ সুবিধা ও কর্মকাণ্ড হবে প্রযুক্তর নির্ভর, প্রযুক্তির ব্যবহার হবে সর্বত্র। এবং সবশেষ স্মার্ট সোসাইটি। আমাদের পুরো সমাজটাই হবে প্রযুক্তি বান্ধব।
তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হবার পর কম্পোলসারি করে দিলাম প্রত্যেকটা ফাইল কম্পিউটারে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে। কিন্তু তখন সেই শিক্ষাটাও ছিল না। কাজেই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা এবং যা কিছু তখন থেকেই শুরু করি। তবে এর পেছনে কারণ আছে, কম্পিউটার আমি শিখলাম কোথা থেকে আমার তো শেখার কথা না, নেহাত বাংলার ছাত্রী। কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয়, সে যখন নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে পড়তো তার কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞান ছিল। তাই কম্পিউটার সম্পর্কে আমার যতটুকু জ্ঞান তা সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকেই আমি পেয়েছি। এটাই হলো বাস্তবতা।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯২ সালে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছিলাম। যে সাবমেরিন কেবল যখন আমাদের আশেপাশে দেশ ইন্ডিয়া, মিয়ানমার থেকে শুরু করে সমস্ত দেশগুলো সংযুক্ত হয় তখন একটা উদ্যোগ ছিল। তখন বাংলাদেশ একটা প্রস্তাব পেয়েছিল সাবমেরিন কেবল বিনা পয়সায় সংযুক্ত হবার। তখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় সে বলেছিল না, সংযুক্ত হওয়া যাবে না। তাহলে নাকি বাংলাদেশের সব তথ্য বাইরে চলে যাবে। কাজেই এটা করা যাবে না। আমরা সেই সুযোগটা হারালাম। আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমাদের উদ্যাগ ছিল সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত ছিল। এই সময় আমরা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলাম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমার ৭৬ বছর বয়স। বেশিদিন তো আর (বাঁচবো না)… যে কোনোদিন অক্কা পেতে পারি, তাই না? যে কোনোদিন চলে যেতে পারি। তারওপর গুলি, বোমা, গ্রেনেড হামলা… তারেক জিয়া-খালেদা জিয়াতো আমাকে ছেড়ে দেয়নি। বারবার আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আমি বেঁচে গেছি। হ্যাঁ, আমরা আইভি রহমানকে হারিয়েছি, বহু নেতাকর্মীকে হারিয়েছি। কিন্তু বার বারতো এ আঘাতগুলো এসেছে আমার ওপর, হয়তো সামনেও আসবে। আমি এগুলো পরোয়া করিনি, করবো না। আমি আমার পরিকল্পনা দিয়ে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান, সেটাও করে দিয়ে গেলাম। ২০২১ থেকে ২০৪১ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়ে গেলাম।… আর ২১০০ সালে এই বদ্বীপ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যেন এই বদ্বীপে জলবায়ুর অভিঘাত থেকে রক্ষা পায়। দেশ উন্নত হয় এবং উন্নত দেশে স্বাধীনভাবে সুন্দরভাবে স্মার্টলি যেন তারা বাঁচতে পারে। এখন সব নির্ভর করছে আমাদের ইয়াং জেনারেশনের উপর, যুব সমাজের উপর।