বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কে আহসান হাবিব ( ৩৫ ) এক ব্যবসায়ীকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে গিয়ে তার কাছ থেকে লুট করে নেওয়া হয়েছে টাকা ও স্বর্ণালংকার। এরপর তাকে মহাসড়কের গাজীপুর এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঔ ব্যবসায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী উপজেলার সিমাবাড়ি ইউনিয়নের ধনকুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা। চান্দাইকোনা বগুড়া বাজার এলাকায় তার একটি ছমিল ও কাঠের ব্যবসা অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খোন্দকার।
ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যবসায়ী বলেন, গত বুধবার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাত সাড়ে সাতটায় মোটরসাইকেল যোগে মহাসড়ক দিয়ে শেরপুর শহরে যাচ্ছিলেন। এসময় ঘোগা সেতু পার হওয়ার পর পিছন দিক থেকে আসা সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেট কার তার গতিরোধ করে। এ সময় প্রাইভেটকার থেকে তিনজন নেমে এসে তার দিকে দুজন তাক করে পিস্তল দেখায় ও অপরজন তার মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের নেয়। তাদের কাছে হ্যান্ডকাপ ছিল। এরপর তাকে প্রাইভেট কারে তুলে চোখ মুখ বেঁধে দেয়। প্রাইভেট কারে তোলার পর তাকে মারধর করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন, নগদ চার হাজার টাকা, চার আনি ওজনের স্বর্ণের একটি আংটি ও ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি ক্রেডিট কার্ড কেড়ে নেয়। মহাসড়কে তাকে এই প্রতিরোধ করার সাথে জড়িত ছিল প্রাইভেট কারের চালকসহ পাঁচজন। সঙ্গবদ্ধ ডাকাত দল গাড়ির ভিতরে তাকে মারধর করে মোবাইলের বিকাশ নম্বর ও এটিএম কার্ডের পিন নম্বর জেনে নেয়।
ব্যবসায়ী আহসান হাবিব আরো বলেন, ওই পাঁচজনের মধ্যে দুজন রাসেল ও সজীব। ডাকাত দলের একজন ওই দুজনকে নাম ধরে ডাকতে শুনেছেন। এদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এদের শরীরে র্যাবের পরিধিয় জ্যাকেট দেখা গেছে। তাদেরকে ঢাকা এলাকার ভাষায় কথা বলতে শোনা গেছে। ডাকাতদল তার মোবাইলে বিকাশ একাউন্ট থেকে ১৩ হাজার ৯০০ টাকা ও ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থেকে কয়েক দফায় একলাখ ৮৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। এরপর ওই রাতের আনুমানিক সাড়ে ১২ টায় গাজীপুরের চান্দুরা ওভারব্রিজের পরে তাকে প্রাইভেটকার থেকে নামিয়ে দেয়। এ সময় তিনি দেখতে পান ডাকাত দলের একজন তার মোটরসাইকেল চালিয়ে নিয়ে আসছে। এখানে তাকে ছেড়ে দিয়ে মোটরসাইকেল ও তার মুঠোফোন সেট দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতে তিনি মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি চলে আসেন। এ ঘটনা নিয়ে তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এই ব্যবসায়ীর বড় ভাই মো. কায়েস বলেন, তার এই ভাই চান্দাইকোনা বাজার এলাকায় ব্যবসায় কর্মকাণ্ড শেষে মাঝেমধ্যে শেরপুরে তাদের বাড়িতে মোটরসাইকেল যোগে যায়। বুধবার রাতে শেরপুর শহরে যাওয়ার পথে তার ভাই ডাকাত দলে কবলে পড়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার হারিয়েছে।
এ নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খোন্দকার বলেন, আহসান হাবিবের এই অভিযোগ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।