বগুড়ার শেরপুরে এক সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনা ছড়িয়ে পরলে রবিবার (১৮জুন) সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং শত শত মানুষ ওই প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নেয়। পরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে শেরপুর থানা পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫জুন) বিকাল ৫টার দিকে ধর্ষণ চেষ্টার এই ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে জানা গেছে , উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া আর্জিনা হামিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ তারিকুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বিকালে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে রবিবার স্কুল খোলার পর থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানতে পারি। আমি তৎক্ষাণাৎ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ভাইয়ের কাছে জানাই। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও নিরব থাকে। পরে শুক্রবার ওই শিক্ষক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি তাতে রাজি হইনি। আমি ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ররোয়া গ্রামের আবু সাইদসহ আরও ১৫/২০ গ্রামবাসি দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারকে জানায়, এই শিক্ষক এর আগেও চারবার এধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রতিবারই ম্যানেজিং কমিটির লোকজনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছে। তার কাছে আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ নয় বলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তারা আরও জানায় যেহেতু ওই শিক্ষকের কাছে কোন সন্তান নিরাপদ নয়, তাই এই স্কুল নয়, আমাদের দাবি জোড় দাবি অন্য কোনো স্কুলেও যেন এই শিক্ষক চাকুরী করতে না পারে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে, তিনি স্বিকার করে বলেন, এর আগেও আমার বিরুদ্ধে ২/৩বার এই অভিযোগ উঠেছে, তবে প্রতিকার চেয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ করিনি।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, অবরুদ্ধের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থালে গিয়ে স্থানীয় জনগণকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
উপস্থিত শেরপুর উপজেলা (সহঃ) শিক্ষা অফিসার ওবায়দুর রহমান জানান, আমি ঘটনাস্থালে এসে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। এবিষয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবু কুমার সাহা জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।