শনিবার খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সম্মেলন সফল করতে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আগেভাগেই সমর্থকরা আসতে শুরু করে। সন্ধ্যা হতে না হতেই কেডিঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয় চত্বর, কালিবাড়ি, ফেরিঘাট, ডাকবাংলা, রেল স্টেশন, পিকচার প্যালেসসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এসব নেতাকর্মী সমর্থকরা বাশের লাঠি, কাঠের চালি ও লাঠির মাথায় জাতীয় পতাকা বেধে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে রাতেই দখলে নেয় খুলনার রাজপথ।
সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা জানান, বাস বন্ধ থাকায় রাতেই তারা খুলনায় চলে আসেন সমাবেশে যোগ দিতে। কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা শুনতে এবং দিক নিদের্শনা পেতে রাতে রাস্তাই থাকবেন তারা। খাবারের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকলেও রাতে নগরীর রেল স্টেশন, সাতরাস্তার মোড়, ময়লাপোতা, সোনাডাঙ্গা, পিকচার প্যালেস, শান্তিধাম মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার খাবারের হোটেল থেকে রাতের খাবার খাবেন। তবে খুলনার নেতাদের দাবি রাতে যারা সমাবেশে এসেছেন সেসব কর্মী সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকার নেতৃত্বের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যশোর থেকে শুক্রবার রাতে খুলনার সমাবেশে যোগ দিতে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের শিমুল জানান, বাস বন্ধ থাকার কারণে রাতেই খুলনায় আসতে হয়েছে। ট্রেনে করে তিনি ও তার সহকর্মীরা এসেছেন। রাতে কোথায় খাবে সেটা তার কাছে বড় কথা নয়। রাজপথেই রাত কাটাবেন।
তিনি জানান, সকালে সমাবেশে যোগ দেবেন আর কেন্দ্রীয় নেতারা কি বার্তা দেন সেই বার্তা নিয়ে ঘরে ফিরবেন। সমাবেশের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা আর বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যশোর থেকে সন্ধ্যায় ট্রেনে করে খুলনায় আসা এক সমর্থক জানান, ট্রেনে আসার সময় অনেকে তাদের সঙ্গে ঝামেলা করেছে। কেউ কেউ হেটে এসেছে। আবার কেউ কেউ সাইকেলে বা মোটরবাইকে করেও এসেছে। গাড়ি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তাদের। সমাবেশ থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বর্তমান সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত করার কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন বলে আশা করেন এই নেতা।
খুলনার রূপসা থেকে আগে ভাগেই শহরে আসা সেলিম বলেন, আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট। তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং বর্তমান সরকারের পদত্যাগ। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে তারপরই ঘরে ফেরবেন বলে মন্তব্য করেন সেলিম।
এদিকে রাতে সমাবেশস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পিকআপে করে মঞ্চ তৈরির পণ্য সামগ্রী আসতে শুরু করেছে। মোড়ে মোড়ে মাইক লাগানো হচ্ছে। দুর দুরান্ত থেকে আসা কর্মী সমর্থকদের কেউ বা চায়ের দোকানে, কেউবা সমাবেশস্থলে সময় কাটাচ্ছেন।