নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সে ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, এখনও তারা আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাননি। আমন্ত্রণ পাওয়ার পর হাইকমান্ড নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সরকারের মনোভাব বুঝে সংলাপে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তারা। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বেশকিছু শর্ত দিতে পারে। সেই সঙ্গে দলের অসুস্থ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে আগামী ২০ ডিসেম্বর সোমবার রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করছেন। এমন সংলাপের মাধ্যমেই সার্চ কমিটি গঠন করে কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এই কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে যাবে বলে নতুন ইসি নিয়োগে সংলাপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করবেন রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদ। এরপর পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত অন্য দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবেন তিনি।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল এখন তিন ডজনের বেশি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনে ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এক মাস ধরে ৩১টি দলের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
সূত্র জানায়, মাঠের বিরোধী দল বিএনপির কাছে সংলাপের চিঠি আগামী সপ্তাহেই পৌঁছে যাবে। দলটিকে সবার মতো একইভাবে সংলাপে ডাকা হবে। এখন বিএনপি সেই সংলাপে যাবে কিনা, সেটিই বড় প্রশ্ন। সংলাপে আমন্ত্রণ পেলে বিএনপি তাতে অংশ নেবে কিনা, সে ব্যাপারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এখনও সংলাপ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘সংলাপ নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। আগে দেখি, দল কী সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এসব লোক দেখানো সংলাপে গিয়ে লাভ নেই। কারণ সেখানে সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত থাকে।’
দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান জানান, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নির্বাচন কমিশন। কমিশন গঠনের আলোচনায় বিএনপি তাদের মতামত তুলে ধরবে। এজন্য গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করা হচ্ছে। তবে সংলাপের ইতিবাচক ফল নিয়ে তিনি নিজেও সন্দিহান।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সময়ের আলোকে জানান, সংলাপ নিয়ে এখনও অবহিত করা করা হয়নি বিএনপিকে। ‘আগে আমন্ত্রণ আসুক। তারপর বলা যাবে। তবে সংলাপের ইতিহাস মধুর নয়। পূর্বপরিকল্পনামাপিক সিদ্ধান্ত আসে। ক্ষমতাসীন দল তাদের শরিকদের কাছে প্রস্তাবনা দিয়ে দেয়। সেসবই বাস্তবায়ন হয়। আগের বার বিএনপিরও একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু এসব সংলাপে কোনো লাভ হয় না।’ বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন গঠনে কোনো আইন না থাকলেও গত দুটি কমিশন গঠন হয়েছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের পর। কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ও কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন দুটি কমিশন গঠনের আগে বিএনপি সংলাপে অংশ নিলেও দুটি কমিশন নিয়েই তাদের প্রবল আপত্তি আছে। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে আবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি তোলা হয়েছে। আর সেই সরকার গঠন হলে তারপর নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে সেই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করে দেশে মানবাধিকার ও বিচার পাওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পালনকালে এটাই হতে পারে দেশবাসীর জন্য সর্বোত্তম প্রাপ্তি।’
অবশ্য গত ২৩ নভেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তাদের দলের অবস্থান খুব স্পষ্ট, এই সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে না তারা। নির্বাচন কমিশন গঠনে কোনো সংলাপে বিএনপি যাবে না বলেও জানান তিনি।