বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না । এর মধ্য দিয়ে সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার পরিকল্পনা করছে। বেগম জিয়ার যদি কিছু হয় তাহলে বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগের মাথার টিকিও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে রংপুর জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রংপুরের গঙ্গাচড়ার বুড়িরহাট ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, শুধু বিএনপি নয় সারা বাংলাদেশের জনগণ বেগম জিয়ার মুক্তি চায়। আমরা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে লুটেরাদের কাছ থেকে দেশকে রক্ষা করবো । দূর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে জেলের তালা ভেঙ্গে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে পাঠাবো।
সরকারকে ‘মাফিয়া’ আখ্যা দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা প্রথমে আকুতি জানিয়েছিলাম বেগম জিয়ার মুক্তি দিন । আমি এই সভা থেকে বলছি আমরা দেশনেত্রীর মুক্তি চাই না, এই সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করবো। এক সময় পাাকিস্তান আমলে আমরা যখন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছিলাম তেমনি এখন বাংলাদেশের লোক এখন ১৪৪ ধারা ভাঙতে শিখে গেছে । সুতরাং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আাপনারা আটকিয়ে রাখতে পারবেন না। আপনারা আমাদের মিটিং,মিছিল,সমাবেশে বাধা দেন আপনারা যত বাধা দেবেন দেশনেত্রীর আন্দোলন বেগবান হবে । রংপুর আজকে বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে,রংপুর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে শরিক হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ যদি আশংঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায় আমরা তখন আমাদের কর্মসূচি বন্ধ রাখবো । কারণ আমরা দেশকে এই দেশে মানুষকে ভালোবাসি । তার অর্থ এ নয় যে আমাদের আন্দোলন থেমে যাবে আমান্দের আন্দোলন বিভিন্ন কৌশলে চলবে । আন্দোলন চলবে আন্দোলন থামবে না । আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, জেলা সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদ, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান লাকু, জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক শরিফ নেওয়াজ জোহা,মহানগর ছাত্রদল সভাপতি নূর হাসান সুমন প্রমুখ।
জেলার ৮টি উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সভায় উপস্থিত হন।