‘আমি আল্লাহু আকবর বলেছিলাম কারণ আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। এবং যখন আমি ভয় পাই, আমি আল্লাহর নাম নিই।’ বিবিসি-হিন্দিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন কর্ণাটকের মান্ডা জেলার প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের তুমুল আলোচিত শিক্ষার্থী মুসকান খান।
এদিকে ভারতীয় হাইকোর্ট জানিয়েছেন, হিজাব পরা মুসলিম নারীদের মৌলিক অধিকার কি না তা বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি ইসলাম ধর্মপালনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ কি না সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার অধিকারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক শুনানিতে এসব কথা বলেন ভারতীয় আদালত।
গত দুই দিনে মুসকানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যাতে দেখা গেছে, তিনি হিজাব পরে তার স্কুটি পার্ক করে ক্লাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন; কিন্তু বেশ কিছু মানুষ তাকে অনুসরণ করছেন। দেখা যায়, গেরুয়া রঙের স্কার্ফ পরিহিত একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে ছাত্রীটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর চিৎকার করছে। ওই ছাত্রীও তখন ভিড়ের দিকে ফিরে দুহাত তুলে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। ওই ঘটনা আর ভিডিওটি পুরো দেশেই আলোচনার ঝড় তুলেছে। আর এরপর কর্নাটকের আলোচিত ওই শিক্ষার্থী মুসকান খানের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি হিন্দি সার্ভিস।
কতদিন ধরে হিজাব পরছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে মুসকান বিবিসিকে বলেন, ‘প্রি-ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর থেকে আমি হিজাব পরে আসছি। কলেজে কোনো সমস্যা হয়নি। সবকিছু আগের মতোই ছিল। আমরা হিজাব পরে ক্লাসে যাচ্ছিলাম। আমরা বোরকা পরি না। শুধু হিজাব পরি। চুল আড়াল করে ক্লাসে যাই। কিন্তু ওই লোকজন আমাকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছিল না। তারা অনেক বহিরাগত ছিল এবং কলেজের ছাত্র ছিল কম। বেশিরভাগই ছিল বহিরাগত।’
মুসকান বলেন, ‘আমি এখানে হিন্দু বা মুসলিম কোনো জাতপাত ছড়াচ্ছি না। আমি শুধু আমার শিক্ষার জন্য, আমার অধিকারের জন্য দাঁড়িয়েছি। আমরা হিজাব পরছি বলে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা বছরের পর বছর ধরে এটি পরছি। এটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই লোকগুলো এমনভাবে বলছে যে, তুমি যদি এটা পরে আসো, তাহলে আমরা এটা (গেরুয়া) পরে আসব। ছেলেরা আমার কলেজের প্রিন্সিপ্যালকে বলছে, সে যদি বোরকা পরে আসে, তাহলে আমরাও এসব সরাবো না (গেরুয়া, গামছা-পাতা ইত্যাদি)। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তারা যেকোনোভাবে আসতে পারে। আমাদের শুধু হিজাব পরার অনুমতি দরকার। যেভাবেই তারা আসুক না কেন, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।’
এদিকে হিজাব সংক্রান্ত শুনানিতে কর্ণাটক হাইকোর্ট গণমাধ্যমগুলোকে কোনো ধরনের মৌখিক পর্যবেক্ষণের খবর প্রকাশ না করতে এবং চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানান। এর আগে হাইকোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চে হিজাব সংক্রান্ত শুনানি শুরু হয়।