বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহতদের রক্ত বৃথা যেতে দেবে না বিএনপি। এছাড়া আন্দোলনে অংশ নিয়ে যারা গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের কষ্ট বৃথা যাবে না। আমরা বৃথা যেতে দেবো না। ইনশাল্লাহ, গণতন্ত্র ফিরে আসবে এই দেশে, জনগণের জন্য সুসময় আসবে।’
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাকুন্দিয়া ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শ্রাবণকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, মির্জা ফখরুল হাসপাতালে শ্রাবণকে দেখতে গিয়ে চিকিৎসকের কাছে থেকে খোঁজ খবর নেন। এ সময় মির্জা ফখরুল গুরুতর আহত শ্রাবণের মাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি। চিকিৎসকরা গুরুত্ব দিয়ে তার চিকিৎসা করছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিয়মিত শ্রাবণের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। গণতন্ত্র ফিরে আনার এই সংগ্রামে আপনার ছেলে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তার এই কষ্ট বৃথা যাবে না। গণতন্ত্র ফিরে আসবে, সুসময় আসবে ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে শ্রাবণের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম।
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্রাবণ পুলিশের গুরুতর জখম হয়। কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তিনবার রক্ত বমি করে। পরে তাকে ছয় ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শকে চলে যায়। তখন তার আইসিইউ’র দরকার হয়। ঢাকা মেডিকেলে আইসিইউ না পাওয়ায় শমরিতা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।’
শ্রাবণ হাসপাতালের আইসিইউ এইচইডিইউ’তে চিকিৎসাধীন। পুলিশের ছোড়া গুলির আঘাতে শ্রাবণের ফুসফুস, খাদ্যনালী, লিভার ও কিডনিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডা. রফিকুল ইসলাম শ্রাবণের সার্বিক চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করছেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান ও শ্রাবণের মা।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৩ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলা পাকুন্দিয়া উপজেলার বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ অংশ নিয়ে পাকুন্দিয়া পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা শ্রাবণ পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। এরপর তাকে ঢাকায় আনা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ জেলার এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা আহবায়ক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলকে শ্রাবণকে দেখতে গিয়েছিলেন।









